দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী শনিবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গে মৌসুমী বায়ু প্রবেশের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার আগে শুক্রবারও কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ, দমকা হাওয়া এবং কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে।
সাধারণত ১০ জুনের মধ্যেই দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করে। তবে এ বছর কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আবহবিদদের মতে, নির্ধারিত সময়ের তিন দিন পরে, অর্থাৎ ১৩ জুন দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা ঢোকার সম্ভাবনা অত্যন্ত জোরালো। উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই মৌসুমী বায়ুর প্রভাব শুরু হয়েছে, এবার সেই অপেক্ষা দক্ষিণের জেলাগুলির।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের আবহাওয়ার ধারা শুক্রবারও বজায় থাকবে। দুপুর বা বিকেলের পর কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় মাঝারি বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যদিও গত কয়েক দিনের তুলনায় বজ্রপাতের তীব্রতা কিছুটা কম থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আজ দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বৃষ্টিপাতই বর্ষার আগমনের পথ আরও সুগম করে তুলবে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। ফলে সপ্তাহান্ত জুড়ে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই বর্ষা সক্রিয়। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি জেলায় আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তার আগে কালবৈশাখী ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির দাপটে সপ্তাহের শেষ কয়েকটি দিন কাটতে চলেছে ভিজে আবহেই।



