রাজ্যের লাইব্রেরি থেকে সরবে মমতার বই! বড় ঘোষণা গ্রন্থাগার মন্ত্রীর, ফিরবে ‘বাংলার ঐতিহ্য’?

রাজ্যের লাইব্রেরি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই সরানোর ইঙ্গিত গ্রন্থাগার মন্ত্রীর। পরিবর্তে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বঙ্কিমদের বইকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের গ্রন্থাগারগুলিতে বই নির্বাচনের নীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হল। জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের বিভিন্ন লাইব্রেরি থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং তার পরিবর্তে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্লাসিক লেখকদের বইকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শুক্রবার দফতরে গিয়ে প্রথম বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই লাইব্রেরিগুলিতে বইয়ের তালিকা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

গৌরী শঙ্কর ঘোষের দাবি, আগামী প্রজন্মকে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির মূল ধারার সঙ্গে আরও বেশি পরিচিত করাতে হবে। সেই প্রসঙ্গে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং স্বামী বিবেকানন্দের মতো মনীষীদের লেখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে যাঁদের অবদান ঐতিহাসিক, তাঁদের সাহিত্যকেই লাইব্রেরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, এই ধরনের সাহিত্য পাঠের মধ্য দিয়েই নতুন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক বিকাশ সম্ভব।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে লাইব্রেরিতে বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে। সেই নীতি থেকে সরে এসে পাঠককেন্দ্রিক ও সাহিত্যভিত্তিক নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু করার ইঙ্গিত দেন তিনি।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই সরানোর প্রস্তাব ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের মতে, লাইব্রেরিতে কোন বই থাকবে বা থাকবে না, তা সাহিত্যমান ও পাঠকের চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত, রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে নয়।

এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোন কোন বই সরানো হবে, কীভাবে নতুন তালিকা তৈরি হবে এবং লাইব্রেরিগুলিতে তার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে স্পষ্টতা আসা বাকি।

তবে মন্ত্রীর মন্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, নতুন সরকার গ্রন্থাগার নীতিতে পরিবর্তন আনতে আগ্রহী। আগামী দিনে সেই পরিবর্তন কতটা বিস্তৃত হয় এবং তা নিয়ে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যের শিক্ষা ও সংস্কৃতি মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর