বিয়ের মরশুম ও উৎসবের আগে সোনা ক্রেতাদের জন্য এল সুখবর। সোনার দাম গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক পতনের ধারা বজায় রেখে বৃহস্পতিবারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য সংশোধন এবং ডলারের ওঠানামার প্রভাবে কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন বাজারে হলুদ ধাতুর দামে স্বস্তি ফিরেছে।
দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যের কারণে অনেকেই সোনা কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক দরপতনের ফলে গয়না ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামনে বিয়ের মরশুম থাকায় বাজারে কেনাকাটার প্রবণতা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সুদের নীতি এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা—এই তিনটি বিষয় মূলত সোনার দাম নির্ধারণ করে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা চাপ তৈরি হওয়ায় মূল্য সংশোধনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্কও করছেন। তাঁদের মতে, বর্তমান দরপতন দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বদলালে বা নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়লে সোনার দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
আজকের বাজারদর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ১৩,৭৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ১১,৩০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। পাশাপাশি ১ কেজি রুপোর দাম রয়েছে ২,৩৭,৪৭৫ টাকা।
তবে ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে, সোনা বা রুপো কেনার সময় ঘোষিত মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ জিএসটি যুক্ত হবে। ফলে চূড়ান্ত কেনাকাটার খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে।
গত কয়েক বছরে সোনার দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বহু বিনিয়োগকারী বিকল্প সম্পদের পাশাপাশি সোনাকেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বর্তমান মূল্যপতন তাঁদের জন্য নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বা গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাছে বর্তমান পরিস্থিতি সুবিধাজনক হতে পারে। তবে যে কোনও বিনিয়োগের আগে বাজার পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



