সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে চাপ বাড়ছেই। একসময় যে টাকায় ভারী গয়না কেনা যেত, এখন সেই অঙ্কেই মিলছে ছোট একটি আংটি। প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য একটি সাধারণ সোনার আংটি কিনতে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যদি সেটি ২২ ক্যারেট সোনার হয় এবং ওজন প্রায় ৩ গ্রাম থাকে।
ভারতে সোনা শুধু অলঙ্কার নয়, দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়ে আসছে। বিয়ে, উৎসব কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানে সোনার গয়নার চাহিদা সবসময়ই থাকে। তবে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে গয়না কেনার আগে এখন অনেকেই খরচের হিসাব কষে নিচ্ছেন।
সাধারণত দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য একটি সোনার আংটির ওজন ২ থেকে ৫ গ্রামের মধ্যে হয়ে থাকে। ডিজাইন, আকার এবং ক্যারেট অনুযায়ী এই ওজন কমবেশি হতে পারে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম প্রায় ১৪,৩৮৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ১১,৮১০ টাকা বলে জানা যাচ্ছে।
সেই হিসাবে ২২ ক্যারেট সোনার ৩ গ্রাম ওজনের একটি আংটির কেবল সোনার মূল্যই দাঁড়ায় প্রায় ৪৩,১৫৫ টাকা। তবে গয়না কেনার সময় শুধু সোনার দামই দিতে হয় না। এর সঙ্গে যুক্ত হয় মেকিং চার্জ, যা সাধারণত ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
যদি ১২ শতাংশ মেকিং চার্জ ধরা হয়, তাহলে অতিরিক্ত প্রায় ৫,১৭৯ টাকা যোগ হবে। এরপর মোট মূল্যের উপর ৩ শতাংশ জিএসটি দিতে হবে, যা প্রায় ১,৪৫০ টাকার কাছাকাছি। সব মিলিয়ে ৩ গ্রামের একটি সাধারণ সোনার আংটির দাম প্রায় ৫০ হাজার টাকায় পৌঁছে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার গয়না কেনার সময় হলমার্ক পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মেকিং চার্জের মধ্যে পার্থক্য থাকে। তাই কেনার আগে একাধিক দোকানে দাম যাচাই করলে কিছুটা সাশ্রয় সম্ভব।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গয়না এবং বিনিয়োগের উদ্দেশ্য এক নয়। প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য কেনা সোনার আংটিতে মেকিং চার্জ ও অন্যান্য খরচ যুক্ত থাকে, যা পরে বিক্রির সময় পুরোপুরি ফেরত পাওয়া যায় না। ফলে শুধুমাত্র বিনিয়োগের কথা মাথায় রেখে সোনা কিনতে চাইলে গোল্ড ETF, ডিজিটাল গোল্ড বা সোভরেন গোল্ড বন্ডের মতো বিকল্প মাধ্যমও বিবেচনা করা যেতে পারে।
সোনার দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে ছোট একটি আংটিও এখন বড় খরচের বিষয় হয়ে উঠেছে। তাই কেনাকাটার আগে বাজারদর, মেকিং চার্জ এবং অতিরিক্ত কর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।



