সোনার বাজারে কি আসছে বড় সংশোধন? সাম্প্রতিক সময়ে সোনা ও রুপোর দামে উল্লেখযোগ্য ওঠানামার মধ্যে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে মূল্যবান এই ধাতুর ভবিষ্যৎ দাম নিয়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড উচ্চতা থেকে ইতিমধ্যেই অনেকটা নেমেছে সোনার দর। বাজার বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আগামী দিনে আরও বড় পতনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
চলতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তবে সেই শিখর স্পর্শ করার পর থেকেই ধীরে ধীরে দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করে। সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তর থেকে সোনার দাম ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে বলে বাজার সূত্রের দাবি। এর ফলে উচ্চ দামে কেনা বিনিয়োগকারীদের একাংশ এখন ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তবে গত এক সপ্তাহে বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতাও দেখা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর সামান্য বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪,২২২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একইভাবে ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) সোনার দামও প্রায় ১.১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ১০ গ্রামে ১.৫০ লক্ষ টাকার বেশি স্তরে বন্ধ হয়েছে।
তবুও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ যদি সুদের হার বাড়ানোর পথে এগোয়, তাহলে সোনার উপর চাপ আরও বাড়তে পারে। কারণ সুদের হার বৃদ্ধি সাধারণত ডলারকে শক্তিশালী করে এবং বিনিয়োগকারীদের সোনা থেকে অন্য সম্পদে ঝুঁকতে উৎসাহিত করে।
স্টেট স্ট্রিট ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের কমোডিটি বিশ্লেষক আকাশ দোশির মতে, বর্তমানে শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং সম্ভাব্য সুদবৃদ্ধি—এই দুই কারণই সোনার বাজারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে সোনার দামে চাপ বজায় থাকতে পারে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সোনার দামের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের উপর।
বিনিয়োগ সংস্থা UBS-এর পূর্বাভাস আরও তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের মতে, যদি বাজারে বর্তমান দুর্বলতা অব্যাহত থাকে, তাহলে স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ৩,৮৫০ থেকে ৪,০০০ ডলারের মধ্যে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ বর্তমান স্তর থেকেও আরও সংশোধনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সোনা দীর্ঘমেয়াদে এখনও নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি ওঠানামার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিনিয়োগের আগে ঝুঁকি, লক্ষ্য এবং আর্থিক পরিকল্পনা বিবেচনা করা জরুরি।
সোনা বা রুপোতে বিনিয়োগের আগে অভিজ্ঞ আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ বাজারের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে, আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই বিনিয়োগ কৌশল নির্ধারণ করা উচিত।



