নজরবন্দি ব্যুরোঃ হাল ফেরাতে লাল ফেরেনি, কারো মনখারাপ, কেউ বা দোষ দিচ্ছেন মেরুকরণকে। রাজ্য জুড়ে বিশাল আয়জোনের সাথে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে ১ মাস ধরে। ভোট উতসবের একেবারে শেষ দিন ছিলো আজ। আজ ছিল গণনা। গত কয়েকমাসে সব দল নিজেরদের মতো করে জানিয়েছিলো এই ২১এ সরকার গড়ছে তারাই। কিন্তু মিউজিক্যাল চেয়ারের শেষে এখানেও চেয়ার একটাই। সেই মতো এখনো পর্যন্ত গেরুয়া, মোর্চা সমস্তকে অনেক পিছনে ফেলে দুই ডিজিট নয় ২০০এর বেশি আসন নিয়ে এগিয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
আরও পড়ুনঃ কমছে মৃত্যু, গত ২৪ ঘন্টায় রাজ্যে বেড়েছে সুস্থতার হারও।


নিজেদের চরম উচ্চকাঙ্খা নিয়েও জিততে না পারার জন্য গেরুয়া শিবির আপাতত চুপ। মুখে কুলুপ এঁটে আত্মসমীক্ষায় ব্যাস্ত তাঁরা। কিন্তু বাম দল? এই নির্বাচনে সব সমীকরণ ভেঙে মার্জিন ব্যাবধানে এগিয়ে থাকার লক্ষ্যেই কংগ্রেস এবং ISF এর সঙ্গে জোট বেঁধেছিলো। ময়দানে নেমেছিলেন তরুণ তুর্কীরা। অথচ এখনো পর্যন্তের ফলাফল বলছে মাত্র ১ টি আসনে জিতেছে ‘জোট’, জিতেছেন সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী।
এই ফলাফলে মন খারাপ অনেকের। কেউ কেউ বসেছেন কারন খুঁজতে। গোটা নির্বাচনে ২৯২ আসনের মধ্যে আজ বাম-কংগ্রেস-ISF এর সম্মিলিত প্রাপ্তি ১ টি আসন। জয় নেই সুজনের-সেলিমের ঝুলিতে, অধীরের গর ভেঙেছে এবার। প্রবল আশার মাঝে এই ফলাফলের জন্য তৈরি ছিলেন না কেউই। যেভাবে প্রশান্ত কৌশলের কাছে ভেসে গিয়েছে গেরুয়া শিবির এবং সংযুক্ত মোর্চা, তাতে এই মুহুর্তে ভাবাচ্ছে বাংলা আর মানুষের চাহিদা। কী ভাবছেন বাংলার মানুষ, কী ভেবেছেন গত একমাস।
বামেদের এই বিপুল ভরাডুবির পর, বিবৃতিতে পলিটব্যুরো লিখেছে, বাংলায় বড় ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। বাংলার মানুষ স্পষ্ট ভাবে ধর্মীয় মেরুকরণের মতাদর্শকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংযুক্ত মোর্চা ও বামেদের ফল হাতাশাজনক। মেরুকরণের কারণেই সংযুক্ত মোর্চা কোণঠাসা হয়েছে। সঙ্গে জানিয়েছেন দলে হারের পর্যালোচনা থেকে শিক্ষা নেবে ভবিষ্যৎ।


হাল ফেরাতে লাল ফেরেনি, তবে ফেরাতে চেয়েছিলেন বহু মানুষ, ফিরবে বলে আশাবাদী ছিলেন বহু মানুষ। নবান্ন অভিযান থেকে দিনের পর দিনের শ্রমজীবী ক্যান্টিন, নিজেদের আবেগ দিয়ে মানুষের দরকারে থেকেছেন একদল। এই হারে মনখারাপ তাঁদের। তবে তাঁরা এবারে আর দোষ দিচ্ছেন না ইভিএম কারচুপির। মাথা পেতে নিয়েছেন জনগনের রায়। বলছেন, জনগণ যেটা ভাল মনে করেছেন, যাঁকে যোগ্য মনে করেছেন, যে দলকে সঠিক ভেবেছেন তাঁকেই বেছেছেন।







