‘গুলি করে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি’ অভিযোগ সোহমের, নিরাপত্তা চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ অভিনেতা

প্রযোজকের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা চাইলেন সোহম চক্রবর্তী। একই সঙ্গে রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও মুখ খুললেন অভিনেতা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের পর জনসমক্ষে কম দেখা গেলেও এবার অন্য কারণেই শিরোনামে অভিনেতা ও তৃণমূল নেতা সোহম চক্রবর্তী। এক প্রযোজকের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে নিরাপত্তার আবেদন করলেন তিনি। একই সঙ্গে রাজনীতি ছাড়ছেন কি না, সেই প্রশ্নেও দিলেন স্পষ্ট বার্তা।

সোহম চক্রবর্তী জানান, সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পদক্ষেপে তিনি সন্তুষ্ট এবং রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের সক্রিয়তা তাঁর ভালো লেগেছে। তবে তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে যদি কেউ অন্যায় করেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অভিনেতার অভিযোগ, কয়েক দিন আগে এক প্রযোজকের সঙ্গে পুরনো আর্থিক ও কাজ সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। সেই সূত্রেই তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

সোহমের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে একটি ছবির জন্য তাঁর সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মাধ্যমে তিনি পারিশ্রমিকের অংশ হিসেবে ১৫ লক্ষ টাকার একটি চেক পান। কিন্তু পরবর্তীতে ছবিটি আর তৈরি হয়নি।

অভিনেতার দাবি, ওই প্রকল্প বাতিল হওয়ায় তাঁরও ক্ষতি হয়েছিল এবং অন্য কাজ ছাড়তে হয়েছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না থাকার পর সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট প্রযোজক তাঁর কাছে টাকা ফেরত দাবি করেন বলে অভিযোগ।

সোহম বলেন, তিনি প্রযোজককে নিজের বাড়িতে ডেকে আলোচনা করেন। তাঁর দাবি, সেখানে তাঁকে বলা হয় ছবি না হওয়ার জন্য তিনি দায়ী। যদিও অভিনেতার বক্তব্য, সময়কাল এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী এই অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, ওই বৈঠকের পর তাঁকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সোহমের দাবি, তাঁকে ‘গুলি করে উড়িয়ে দেওয়ার’ কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কিছু অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর।

ঘটনায় অন্য কয়েকজনের নাম উঠে আসার পর অভিনেতা নিজে যোগাযোগ করেন বলে জানান। তাঁর বক্তব্য, নথিপত্র দেখে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি আইনিভাবেই মোকাবিলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাজনীতি নিয়েও মুখ খুলেছেন সোহম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজনীতি ছাড়ার কোনও সিদ্ধান্ত তিনি নেননি। তবে দীর্ঘ নির্বাচনী ব্যস্ততার পর আপাতত পরিবার ও নিজের জন্য কিছুটা সময় নিতে চাইছেন। বাবার শারীরিক অবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া কতটা এগোয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া কী আসে, সেদিকেই নজর থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর