দলের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভ কি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে? বিধায়কদের বৈঠকে সরাসরি প্রশ্ন তোলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের তিন মুখ— কুণাল ঘোষ, সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে বৈঠক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে বার্তাও দেওয়া হয়েছে— দলের ভিতরে মত প্রকাশের গণতান্ত্রিক পরিসর রয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রায় ৪০ মিনিটের এই বৈঠকে উঠে এসেছে সংগঠন, নেতৃত্ব এবং স্থানীয় স্তরে কাজের ধরন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন। উত্তর কলকাতার সাংগঠনিক অবস্থাকে সামনে এনে সরব হন এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত উত্তর কলকাতার নেতৃত্বের দিকেই গিয়েছে।
অন্যদিকে কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন দলীয় ছাত্র ও যুব সংগঠনের কার্যকারিতা নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বে পরিবর্তন না হওয়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। দলীয় অন্দরে এই আলোচনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ বিষয়টি সরাসরি সংগঠনের ভবিষ্যৎ কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।
সবচেয়ে কড়া অবস্থান নেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি, উলুবেড়িয়া কেন্দ্রকে ঘিরে স্থানীয় স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তিনি সরব হন। তাঁর বক্তব্য, কিছু নেতার অতীত কাজের দায় তিনি বিধায়ক হিসেবে নিতে রাজি নন। এমন অভিযোগও ওঠে যে, নির্বাচনের সময় অন্তর্ঘাতের চেষ্টা হয়েছিল, যা তিনি স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়েই মোকাবিলা করেছেন।
বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ উঠে আসে। সূত্রের দাবি, ঋতব্রত অভিযোগ করেন যে কিছু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসই দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করার পরামর্শ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তৃণমূলের অন্দরে এখন আলোচনা— দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ কি ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে? দলের একাংশের মতে, আগে অনেক বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলার পরিবেশ ছিল না। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্রেও পরিবর্তন এসেছে।
সূত্রের খবর, সকলের বক্তব্য শোনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি লিখিত আকারে জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এখন নজর— এই অভিযোগগুলি শুধুই দলীয় আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি সাংগঠনিক স্তরে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়।



