ইরানের হামলায় ধ্বংস ৪২ মার্কিন যুদ্ধবিমান! রিপোর্ট সামনে আসতেই ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানের সঙ্গে সংঘাতে এফ-১৫, এফ-৩৫-সহ ৪২টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি সিআরএস রিপোর্টে, বাড়ছে যুদ্ধ উত্তেজনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ঘিরে এবার বড়সড় অস্বস্তিতে আমেরিকা। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা প্রকাশিত এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, চলতি সংঘাতে এখনও পর্যন্ত ৪২টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিপোর্ট সামনে আসতেই আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

‘কংগ্রেসশনাল রিসার্চ সার্ভিস’ (সিআরএস)-এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘর্ষে মার্কিন সেনার একাধিক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এফ-১৫ই ইগল, এফ-৩৫এ লাইটনিং এবং এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২-এর মতো আধুনিক যুদ্ধবিমানও।

রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জামের তালিকায় রয়েছে ৪টি এফ-১৫ই ইগল ফাইটার জেট, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং যুদ্ধবিমান এবং একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২। পাশাপাশি আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী ৭টি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমানও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এছাড়া একটি ই-৩ সেন্ট্রি আকাশভিত্তিক সতর্কীকরণ বিমান, দু’টি এমসি-১৩০জে কমান্ডো ২ বিশেষ অভিযান বিমান এবং একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ড্রোন ক্ষতির ঘটনায়। সিআরএস জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালীন ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন ধ্বংস বা অচল হয়ে পড়েছে।

যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর এখনও পর্যন্ত যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির কোনও পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। সিআরএস সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট, পেন্টাগনের বিবৃতি এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই পরিসংখ্যান সামনে এনেছে।

এর আগে পেন্টাগন জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে আমেরিকার। সেই খরচের বড় অংশই গিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামত এবং যুদ্ধ পরিচালনার পিছনে।

রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই আক্রমণাত্মক সুরে মুখ খুলেছে তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘাচি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে গেলে আমেরিকাকে আরও বড় চমকের মুখে পড়তে হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে এই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ্যে আসা নিঃসন্দেহে ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধাক্কা। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কাও বাড়ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

-Advertisement-

আরও খবর