বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগের আলোচনা ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত ২৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে প্রতিরক্ষা দপ্তরের সুপারিশ, নতুন যুদ্ধবিমান, ড্রোন, রাডার ও নৌ-পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা— সব মিলিয়ে ঢাকার সামরিক আধুনিকীকরণ নিয়ে আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের নজর বাড়ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই পুরো পরিকল্পনা নিয়ে চূড়ান্ত সরকারি অনুমোদনের ঘোষণা সামনে আসেনি।
সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই অতিরিক্ত বরাদ্দ মূল প্রতিরক্ষা বাজেটের বাইরে একটি আলাদা ‘প্রকিউরমেন্ট বাজেট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য নতুন সামরিক সরঞ্জাম, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি সংগ্রহ। সবচেয়ে বড় অংশ বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণে ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।


পরিকল্পনার মধ্যে বহু-উদ্দেশ্য যুদ্ধবিমান, আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার, আধুনিক ইউএভি, কমব্যাট ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, দূরপাল্লার রাডার এবং বিমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির মতো উপাদান থাকার কথা বলা হচ্ছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেও নতুন সরঞ্জাম ও অবকাঠামো উন্নয়নের রূপরেখা আলোচনায় রয়েছে।
একই সময়ে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের তৈরি জেএফ–১৭ ব্লক–৩ যুদ্ধবিমান নিয়ে বাংলাদেশ আগ্রহ দেখিয়েছে এবং প্রশিক্ষণ সহায়ক সিমুলেটরও দেওয়া হয়েছে। তবে বিমান কেনা বা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়নি।
তুরস্কের সঙ্গে ড্রোন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এই বিষয়েও সরকারি স্তরে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অনেক দেশই প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে জোর দিচ্ছে।


বাংলাদেশের সামরিক নেতৃত্ব আগেও জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি মানেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নয়; বরং নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে এই ধরনের পরিকল্পনা দেখা উচিত। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ভারসাম্য নিয়েও আলোচনা চলছে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— অতিরিক্ত বরাদ্দ, সম্ভাব্য ক্রয় এবং বিদেশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অনেক তথ্য এখনও প্রস্তাব ও আলোচনার স্তরে রয়েছে। চূড়ান্ত বাজেট ও সরকারি ঘোষণা সামনে এলে বাস্তব চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।











