মাসাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের মাটিতে সম্ভাব্য শান্তি বৈঠকের আগে হঠাৎ করেই ‘পূর্ণ জয়ের’ দাবি তুলে চাঞ্চল্য ছড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তাঁর এই ঘোষণায় কূটনৈতিক মহলে যেমন বিস্ময়, তেমনই উঠছে একাধিক প্রশ্ন—যখন যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তিই হয়নি, তখন এই বিজয়বার্তা কেন?
ওয়াশিংটনের বক্তব্যে স্পষ্ট, এই সংঘর্ষকে তারা কৌশলগত সাফল্য হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই যুদ্ধবিরতি “বিশ্ব শান্তির জন্য বড় পদক্ষেপ”। তাঁর সুরেই কথা বলেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth। তাঁর কথায়, “অপারেশন এপিক ফিউরি” ছিল এক ঐতিহাসিক সামরিক সাফল্য, যেখানে আমেরিকা তাদের নির্ধারিত সমস্ত লক্ষ্য পূরণ করেছে—বিশেষত ইরানের সামরিক ক্ষমতা দুর্বল করা।
এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে ইজরায়েলও। প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর নেতৃত্বে তেল আভিভের দাবি, এই সংঘর্ষ ছিল তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, এবং বর্তমানে ইরানকে ঘিরে বড়সড় হুমকি অনেকটাই কমেছে।
তবে বাস্তব চিত্র এতটা সরল নয়। যুদ্ধের শুরু থেকেই মার্কিন অবস্থানে একাধিক অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। কখনও তারা বলেছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামানোই লক্ষ্য, আবার কখনও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র Strait of Hormuz-এর উপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্পষ্ট কোনও অবস্থান নেয়নি ওয়াশিংটন—যা কৌশলগত দিক থেকে বড় ফাঁক হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।


সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, পাকিস্তানে সম্ভাব্য আলোচনার আগেই এই ‘জয়ের’ ঘোষণা। কূটনৈতিক মহলের মতে, এটি হয়তো আলোচনার টেবিলে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল। যদিও এখনও পর্যন্ত তেহরান থেকে ট্রাম্পের দাবির সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সেই নীরবতাই এখন সবচেয়ে বড় রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।



