আগামীকালের আবহাওয়া নিয়ে নতুন পূর্বাভাসে স্পষ্ট ইঙ্গিত, সোমবার (৩ আগস্ট) কলকাতা (Kolkata)-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির দফায় দফায় সম্ভাবনা রয়েছে। দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে (North Bengal) মৌসুমি বায়ুর জোরে টানা ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সতর্কতায় একাধিক জেলায় কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে।
সোমবার কলকাতার আকাশ সারাদিনই মূলত মেঘলা থাকবে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৮ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে। তবে তাপমাত্রার থেকেও বেশি ভোগাতে পারে বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প। প্রায় ৭৮ শতাংশ গড় আর্দ্রতার কারণে গরমের সঙ্গে অস্বস্তিও থাকবে প্রবল।
ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সকাল গড়ালে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও আকাশ মেঘলা থাকবে এবং হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় থাকবে। এই সময় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।
দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার সময়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে ভারী বজ্রঝড় ও প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সম্ভাবনা ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। সন্ধ্যার পর বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও হালকা বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। রাতের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা আরও কমে গেলেও আকাশ পুরোপুরি পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা নেই।


দক্ষিণ দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৭ মাইল বেগে বাতাস বইতে পারে। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে দুপুর ও বিকেলে বাইরে বেরোলে ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রবল জলীয় বাষ্প প্রবেশ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) ও আলিপুরদুয়ার (Alipurduar)-এ ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সবচেয়ে বেশি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।


দার্জিলিং (Darjeeling), কালিম্পং (Kalimpong) এবং কোচবিহার (Cooch Behar)-এ মঙ্গলবার অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ধস এবং নদ-নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহেও সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়বে।
দক্ষিণবঙ্গে যদিও সর্বত্র ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নেই, তবুও আগামী সাত দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া (Howrah), হুগলি (Hooghly), নদিয়া (Nadia) ও উত্তর ২৪ পরগনায় মাঝেমধ্যেই বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে মঙ্গলবার ও বুধবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম বর্ধমানে বিক্ষিপ্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও বজায় থাকবে।
সপ্তাহের শুরুতেই রাজ্যের দুই প্রান্তে দুই রকম আবহাওয়ার ছবি দেখা যেতে পারে। উত্তরবঙ্গে অতিভারী বৃষ্টি নিয়ে প্রশাসনের সতর্ক নজর থাকলেও, দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষকে আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট দেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েই বাইরে বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



