পশ্চিমবঙ্গের সংশোধিত ভোটার তালিকা ঘিরে সামনে এল বড়সড় পরিসংখ্যান। ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’-এ থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে প্রায় ৩৩ লক্ষ ফের অন্তর্ভুক্ত হলেও বাদ পড়েছে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটার। নির্বাচন কমিশনের বিধানসভা ভিত্তিক নতুন তালিকা প্রকাশ হতেই স্পষ্ট—কোথাও ব্যাপক ছাঁটাই, আবার কোথাও সংখ্যা ন্যূনতম।
ভারত নির্বাচন কমিশন-এর তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ভোটার নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। জেলার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্র এই তালিকার শীর্ষে। তার মধ্যে সামশেরগঞ্জে বাদ পড়েছে ৭৪,৭৭৫ জনের নাম, রঘুনাথগঞ্জে ৪৬,১০০, সুতি ও জঙ্গিপুরেও সংখ্যাটা উল্লেখযোগ্য। মেটিয়াবুরুজ ও মোথাবাড়ির মতো কেন্দ্রেও বড় আকারে নাম বাদ গিয়েছে।
শুধু তাই নয়, সর্বাধিক ‘ডিলিটেড’ ভোটারের তালিকার প্রথম দশে রয়েছে মুর্শিদাবাদের ছয়টি আসন—যা জেলার রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং জনঘনত্বের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি রতুয়া, করণদিঘি, গোয়ালপোখর ও মালতিপুরের মতো উত্তরবঙ্গের আসনেও বড় সংখ্যায় ভোটার বাদ পড়েছে।
অন্যদিকে একেবারে উল্টো ছবি দেখা গিয়েছে পুরুলিয়া জেলায়। মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্রে মাত্র ৭১ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে—যা রাজ্যের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া ওন্দা (১১৪), ছাতনা (২৪৮), কাশীপুর (২১৮) ও ঝাড়গ্রামের কয়েকটি কেন্দ্রে নাম বাদ পড়ার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তমলুক ও নয়াগ্রামেও একই প্রবণতা দেখা গেছে।
পুরো SIR প্রক্রিয়ার সামগ্রিক চিত্র আরও তাৎপর্যপূর্ণ। মোট ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে। SIR শুরুর আগে যেখানে রাজ্যে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৭.৬৬ কোটি, তা এখন কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৭৭ কোটিতে।
এই বিশাল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা তুঙ্গে। কোন এলাকায় কেন বেশি নাম বাদ গেল, তার পেছনে জনসংখ্যা, স্থানান্তর, মৃত ভোটার কিংবা তথ্যগত ত্রুটি—সব দিক নিয়েই এখন বিশ্লেষণ চলছে।



