বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্কের মাঝেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাংলার পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটে চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন। কিন্তু নাম বাদ যাওয়ার নিরিখে বাংলাকে অনেকটাই ছাপিয়ে গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাট। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের খসড়া তালিকা অনুযায়ী, এক ধাক্কায় ৭৩ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩২৭ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে গুজরাটে। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ায় রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে বিজেপির উপর।
মধ্যপ্রদেশেও লক্ষ লক্ষ নাম বাদ
SIR প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। কমিশন সূত্রে খবর, সেখানে প্রায় ৪২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়তে চলেছে। আগামী মঙ্গলবার মধ্যপ্রদেশের প্রাথমিক খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ, বাংলার পাশাপাশি বিজেপি-শাসিত দুই রাজ্যেই ভোটার তালিকায় বড়সড় রদবদল হচ্ছে।


গুজরাটে ভোটার সংখ্যা কমল প্রায় ৭৪ লক্ষ
মোদী-শাহের রাজ্য গুজরাটে SIR প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ কোটি ৮ লক্ষ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৩৪ লক্ষে। অর্থাৎ এক ধাক্কায় ভোটার সংখ্যা কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশের কাছাকাছি। এই তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—বাংলায় নাম বাদ পড়া নিয়ে এত অভিযোগ হলে, গুজরাটে এত বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ার ব্যাখ্যা কী?
কী কারণে বাদ পড়ল এত নাম?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৫০,৯৬৩ জন বুথ লেভেল অফিসার (BLO) বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার যাচাইয়ের কাজ করেছেন। এই যাচাইয়ের ভিত্তিতেই নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী—
-
মৃত ভোটার: ১৮,০৭,২৭৮ জন
-
স্থায়ী ভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন: ৪০,২৫,৫৫৩ জন
-
‘নন-এগজ়িস্ট্যান্ট’ (খোঁজ মেলেনি): ৯,৬৯,৬৬২ জন
-
দু’টি জায়গায় নাম নথিভুক্ত: ৩,৮১,৪৭০ জন
-
‘অন্যান্য’ (Others): ১,৮৯,৩৬৪ জন
এই ‘অন্যান্য’ বিভাগেই ঘুসপেটিয়া বা অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকতে পারে বলে দাবি করা হলেও, কমিশনের পরিসংখ্যানে ঠিক কত জন ‘ঘুসপেটিয়া’ ভোটার বাদ পড়েছেন—তার কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই।
বিজেপির অস্বস্তি বাড়ছে
বিজেপির তরফে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলায় ভোটার তালিকায় ‘ঘুসপেটিয়া’ থাকার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। কিন্তু গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে বাংলার তুলনায় বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ায় রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠছে—তবে কি বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতেও একই সমস্যা ছিল? নাকি SIR প্রক্রিয়াতেই বড়সড় ত্রুটি রয়েছে?
দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটাররা এই খসড়া তালিকা নিয়ে দাবি বা আপত্তি জানাতে পারবেন। যদি কারও নাম বাদ পড়ে থাকে, তবে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অভিযোগ জানাতে হবে। ওই সময়সীমার মধ্যেই সব অভিযোগের নিষ্পত্তি করার লক্ষ্য নিয়েছে কমিশন।
SIR প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত ভোটার তালিকাকে কতটা নির্ভুল করবে, না কি নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে—সেটাই এখন দেখার।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।





