শিলিগুড়ির জয় ম্যাজিক নয়, অসাধ্য সাধনের কথা জানালেন পাপিয়া ঘোষ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তিনি রবিকন্যা। অন্তত রাজনীতিতে তাঁর এটাই পরিচয়। তাঁর উপস্থিতিতে অস্তমিত হয়েছে শিলিগুড়ির বাম দূর্গের৷ ইদানিং তাঁকে নিয়ে কাঞ্চনকোলে গসিপ শুরু হয়েছে। শুধুমাত্র পাহাড়ে নয়, সমতলেও তাঁর মতো দক্ষ সংগঠককে চাইছে কর্মীরা। উত্তরবঙ্গে সতেজ হয়েছে ঘাসফুল। রাজনৈতিক বিচক্ষণতা কী জিনগত? নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণা? নজরবন্দির নজরে পাপিয়া ঘোষ।

দীর্ঘদিন ধরে শিলিগুড়ি বামেদের ছিল। বামেদের গড় বলা হত। সেখান থেকে অভুতপূর্ব রাজনৈতিক পরিবর্তন। নেতৃত্বে আপনি৷ গোটা বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন?

পাপিয়া ঘোষঃ একদমই। শিলিগুড়ির মানুষ উন্নততর শিলিগুড়ি গড়বার লক্ষ্যে বামেদের হাতে নিজেদের প্রিয় শিলিগুড়ি শহরটাকে তুলে দিতেন৷ কিন্তু যত ৫ বছর ভোট দিতাম। দেখতাম আরও ৫ বছর পিছিয়ে গেছি। এবারে মানুষ বুঝতে পেরেছে। ২০১৯ এবং ২০২১ সালে অন্য একটি দলকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের মানুষ বুঝতে পেরেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া উন্নততর শিলিগুড়ি বা একটা মডেল শিলিগুড়ি গড়ে ওঠা সম্ভব নয়৷ তাই দিদির ওপর আশা-ভরসা রেখে মনস্থির করে ফেলেছিলেন দিদির হাতেই এই শহরকে তুলে দেবেন৷

শিলিগুড়ির জয় ম্যাজিক নয়, অসাধ্য সাধনের কথা জানালেন পাপিয়া ঘোষ
শিলিগুড়ির জয় ম্যাজিক নয়, অসাধ্য সাধনের কথা জানালেন পাপিয়া ঘোষ

কোচবিহার থেকে মালদহ, শিলিগুড়িতে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলের খবর মেলে। একইভাবে শোনা যায় শিলিগুড়িতে রঞ্জন সরকার এবং গৌতম দেবের দুটি গোষ্ঠী রয়েছে। এটাকে কীভাবে একত্রিত করলেন?

পাপিয়া ঘোষঃ আমাদের এখানে কোনও গোষ্ঠীকোন্দল নেই। এটা বিরোধীদের তৃণমূলকে কালিমালিপ্ত করার প্রয়াস। আর কিছু না। তাঁদের হাতে আর কোনও অস্ত্র নেই৷ একটি ছোট চার জনের পরিবারে মতবিরোধ হয়৷ তারপরে তাঁদেরকে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হয়৷ তেমনি আমাদের তৃণমূল বৃহৎ পরিবার৷ এখানে মতবিরোধ থাকতেই পারে। দলের স্বার্থে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। আমি আমার মাথার ওপরে রেখেই কাজ করেছি। আমি যখন যার কাছে পরামর্শ চেয়েছি, তখনই তাঁরা দিয়েছেন।

শিলিগুড়িতে জয়ের পরেই মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফর। এ যেন দলনেত্রীকে কর্মীদের উপহার৷ সেটা গৌতম দেবকেও বলতে শুনেছি। আপনার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথা হয়েছে? শিলিগুড়ির জয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কিছু বলেছেন?

পাপিয়া ঘোষঃ প্রথমেই বলি আমরা এই জয় মুখ্যমন্ত্রীকে উপহার দিইনি। দিয়েছে শিলিগুড়ির মানুষ। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফটোসেশন ছিল। খুব ভালো কাজ করেছি বলে খুব সুন্দর করে বললেন৷ কোচবিহারে নামার পরেই বাবা সহ প্রত্যেক নেতাকে বলেছে। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, তোমার মেয়ের নেতৃত্বে শিলিগুড়ি পেয়েছি। সেটা নয়। দিদি অনেক মহান মনের মানুষ। কিন্তু নেতৃত্ব আমি দিইনি। সাধারণ কর্মীদের বলেছিলাম নেতৃত্ব দিতে ৷ তাঁরাই দিয়েছে। আমি শুধুমাত্র তাঁদের পাশ থেকে উৎসাহ দিয়েছিলাম। মনোবল বৃদ্ধি করার চেষ্টা করেছি।

শিলিগুড়ির জয় ম্যাজিক নয়, অসাধ্য সাধনের কথা জানালেন পাপিয়া ঘোষ
শিলিগুড়ির জয় ম্যাজিক নয়, অসাধ্য সাধনের কথা জানালেন পাপিয়া ঘোষ

যানজট শিলিগুড়ির বড় সমস্যা। যানজটের সমস্যা মেটাতে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

পাপিয়া ঘোষঃ নির্বাচনের আগেই আমরা দশ দিগন্ত বলে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছি। সেখানে প্রত্যেকটা দিককে আমরা নজর দিয়েছি। যানজটের সমস্যা মেটাতে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। সেটা বাস্তবে রূপায়িত হবে। আমাদের যখন প্রশাসনিক বোর্ড ছিল, তখন আমরা রাইটসকে দিয়ে সমীক্ষা করিয়েছি। কোথায় কোথায় উড়ালপুল করা যায়। ১ নম্বর থেক ৪৭ নম্বর অবধি উড়ালপুল করার পরিকল্পনা রয়েছে৷ কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে।

জেলা সভাপতি হিসাবে শিলিগুড়ি নিয়ে কী কী পরিকল্পনা রয়েছে আপনাদের?

পাপিয়া ঘোষঃ জেলা সভাপতি হিসাবে সংগঠন দেখা আমার কাজ। অবশ্যই প্রশাসনিক কাজে যারা রয়েছেন, তাঁরা দেখবেন। জেলা সভাপতি হিসাবে মানুষের কাজ মানে জনসংযোগ৷ বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানো। একবারে বুথ লেভেল অবধি সেটা করব। বিভিন্ন সময় যখন সমস্যার কথা উঠে আসবে, সেগুলো আমাদের প্রশাসনে যারা রয়েছেন, তাঁদেরকে কাছে পৌঁছে দেবো। সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে কী কী করা যায় সেটা দেখব।

শিলিগুড়ির জয় ম্যাজিক নয়, বলছেন জেলা সভাপতি 

শিলিগুড়ির জয় ম্যাজিক নয়, বলছেন জেলা সভাপতি 
শিলিগুড়ির জয় ম্যাজিক নয়, বলছেন জেলা সভাপতি

শিলিগুড়িতে জয়ের পর আপনার বাবার তরফে কী বার্তা এসেছিল?

পাপিয়া ঘোষঃ একদম লিডাররা যেভাবে তাঁর কর্মীকে বলেন, ঠিক সেভাবেই ফোন এল। আমি তখন কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে৷ কনগ্র‍্যাচুলেশনস। একটু পর পর খোঁজ নিচ্ছিলেন কোন ওয়ার্ডে কী খবর। ওনার যারা পরিচিত তাঁরা কেউ জয়ী হলেন কী না। উনি বাবা তো আছেন৷ আমার কাছে লিডার বেশী। ওনার থেকে সবকিছু শেখা। যতটুকু শিখেছি, ওনার কাছ থেকে শিখেছি। আমার বেড়ে ওঠা ওই পরিবেশে। যেখানে তিনি দীর্ঘদিনের জেলা সভাপতি ছিলেন। পুরো জেলার মানুষ বাড়িটাতে আসতেন। সেই পরিবেশে আমার বেড়ে ওঠা।

শিলিগুড়ির জয়ের পর উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের কামব্যাকের আশা দেখা যাচ্ছে। সেখানে যদি আপনাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আপনার কী পরিকল্পনা থাকবে?

পাপিয়া ঘোষঃ আমি একজন বুথ কর্মী। আমার ওপর দার্জিলিং জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যখন, যেখানে দল আমাকে বলেছে করেছি। একটা সময় বাবার জন্য করতাম। বাবা ৮ টি বিধানসভা দেখত৷ আমরা বাবার বিধানসভা করতাম৷ পরবর্তীতে অরূপ বিশ্বাসের হাত ধরে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই জেলায় কাজ শুরু। প্রথমে মহিলা সংগঠন, তারপর কোচবিহার-দার্জিলিং আইসিডিএসের চেয়ারম্যান, পরবর্তীতে উত্তরবঙ্গের দায়িত্ব। ছোট হোক, বড় হোক যেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেখানে ১০০ শতাংশ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দল যাতে না কালিমালিপ্ত হয় সেই চেষ্টাই করেছি। এখন দলনেত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি তার যোগ্য কিনা জানিনা। শিলিগুড়ির জয় ম্যাজিক নয়। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনিই আমাদের প্রার্থী। দ্বিতীয় তাঁর জনমুখী প্রকল্প। তৃতীয় আমি থেকে আমরা হতে হয়েছিল৷ সকল স্তরের কর্মীদের নিয়ে টিম তৈরি করেছিলাম৷ প্রত্যেককে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছিলাম। দল আগামী দিনে আমাকে যা দেবে আমি প্রস্তুত। আমি আমার একশো শতাংশ দিয়ে কাজ করব। দল কালিমালিপ্ত হবে না এটা বলতে পারি৷

শিলিগুড়ির জয় ম্যাজিক নয়, অসাধ্য সাধনের কথা জানালেন পাপিয়া ঘোষ
শিলিগুড়ির জয় ম্যাজিক নয়, অসাধ্য সাধনের কথা জানালেন পাপিয়া ঘোষ

নির্বাচনে লড়াইয়ের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে?

পাপিয়া ঘোষঃ দল যা সিদ্ধান্ত নেবে তা আমি মাথা পেতে নেবো। তবে আমি এই মুহুর্তে সংগঠনের ওপর গুরুত্ব দিতে চাই। আরও ভালো করে সংগঠনটাকে করতে চাই। যাতে পরবর্তীতে অন্য কোনও জেলা সভাপতি এলে বুঝতে পারেন তাঁর কাছে সংগঠনের মজবুত ভীত রয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত