ঝুড়ি ঝুড়ি নালিশ শুভেন্দু-অর্জুন-সৌমিত্রের, আদি বিজেপি বলছে ‘ওঁরা’ বুঝেছেন বিরোধী হওয়ার জ্বালা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ঝুড়ি ঝুড়ি নালিশ শুভেন্দু-অর্জুন-সৌমিত্রের, কার্যত গোটা বৈঠক জুড়েই প্রায় প্রতি বিষয়েই হয় ‘না’ সূচক মনোভাব, নয় কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ জানিছেন একদা ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মে যাওয়া নেতারা। সব মিলিয়ে আজকের বৈঠক শেষের রিপোর্টে আদি বিজেপি বলছে এতবছর শাসক দলে রাজনীতি করে এসে বিরোধী দলের নেতা হওয়ার জ্বালা টের পাচ্ছেন শুভেন্দু-সৌমিত্র-অর্জুন।

আরও পড়ুনঃ ভোট-পরবর্তী হিংসায় উদ্বিগ্ন, সন্ত্রাস নথিভুক্ত করতে ৫ জনের কমিটি গড়লেন দিলীপ

ভোট পরবর্তী বাংলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে এসেছেন পাঞ্জাবের বিজেপি নেতা তরুন চুঘ। আর তার উপস্থিতিতে হেস্টিংসে বৈঠক ডেকেছিল বঙ্গ বিজেপি। এমনিতেও দলের অন্দরে কান পাতলেই কোথাও কোথাও শোনা যাচ্ছে ছন্দপতনের শব্দ। বৈঠকে ডাক পেয়েও আসেননি বিজেপির একাধিক প্রথম সারির নেতা-নেত্রী। তার মধ্যেই প্রায় সব বিষয়েই সুর চড়িয়েছেন শুভেন্দুরা। সব মিলিয়ে মনক্ষুন্ন আদি বঙ্গ বিজেপি।

নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্র-রাজ্য, আদি-নতুন সকল বিজেপি সব নেতারাই দাবী করেছিলেন এই নির্বাচনে ২০০ এর বেসি আসন জিতে বাংলায় গেরুয়া ঝড় আনবে ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু তাঁদের সকল বিশ্বাসে ধূলো দিয়ে প্রশান্ত কিশোরের ভবিষ্যত বাণী ১০০ এর আগেই আটকে দিয়েছে বিজেপিকে, সামনে দিয়ে ২০০ এর বেশি আসন নিয়ে তৃতীয় বারের জন্য সরকার গড়ে ফেলেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।

এতো মিছিল-মিটিং। নেতামন্ত্রীদের সভা তার পরেও কেনো বিজেপির এই বিপর্যয়? এই প্রশ্নের সমাধানের আগেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক হিংসা, তা নিয়ে প্রথম থেকেই সরব হয়েছে বিজেপি, সব মিউলিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাংলায় এসেছেন পাঞ্জাবের বিজেপি নেতা তরুণ চুঘ। তার তাঁর উপস্থিতির বৈঠকেই একের পর এক বিষয় নিয়ে সুর চড়িয়েছেন একদা তৃণমূল থেকে এখন বিজেপিতে যাওয়া শুভেন্দু-সৌমিত্র-অর্জুন।

বিজেপি সূত্রের খবর, বৈঠকে সব থেকে বেশি সরব ছিলেন অর্জুন সিং। ভোটে বিজেপির পার্থী তালিকা থেকে এখনের পরিস্থিতি সব মিলিয়ে লম্বা তালিকা ধরে অভিযোগ করেছেন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী তালিকা নিয়ে, এমনকি অভিযোগ এনেছেন ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত কর্মীরা ফন করলে সৌজন্য দেখিয়ে কথা বলছেন না পরাজিত প্রার্থীরা। তার মতে রাজ্যের নেতারা আদতে কিছু করছেন না, প্রয়োজন কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের।

কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের কথা তুলেছেন বিজেপির হাই ভোল্টেজ নেতা, তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একই ভাবে সুর চড়িয়েছেন বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁও। দলের ভেতরের একাধিক সমস্যা নিয়ে অভিযগের পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, বারবার পরিস্থিতি সামাল দিতে এক জায়গার নেতা অন্য জায়গায় কেনো যাবেন? যিনি খারাপ পরিস্থিতির মুখে পড়বেন, সামলাবেনও তিনিই। ২০০ কিলোমিটার দূরে পরিস্থিতি সামলাতে তিনি যাবেন না, উল্লেখ্য তিনি জানিয়েছেন বাঁকুড়ার বাইরে অন্য জেলা পরিদর্শনেও যেতে নারাজ তিনি।

ঝুড়ি ঝুড়ি নালিশ শুভেন্দু-অর্জুন-সৌমিত্রের, তবে তরুন চুঘ, দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতে তৃণ্মুল থেকে আসাদের এহেন সরব হতে দেখে কিছুটা ক্ষুন্ন বঙ্গ বিজেপি। উঠে আসছে একাধিক মন্তব্যও। ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির এক শীর্ষনেতার  বক্তব্য, “দেখা গেল, যাঁরা একসময়ে আমাদের উপর অত্যাচার করেছেন, তাঁরাই বেশি সরব। এতদিন তাঁরা শাসকদলে থেকে রাজনীতি করেছেন। এখন টের পাচ্ছেন বিরোধী হওয়ার কী জ্বালা!” অনেকেই বলছেন তৃণ্মুল থেকে এসে আদি বিজেপি নেতাদের সরিয়ে সামনের সারিতে ‘নেতা’ হিসেবে তো দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরাই। তাহলে আজকে সমস্যা সমাধানে নেতাদের খোঁজ করছেন কেন? আর কেনোই বা কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ চাইছেন?

 

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত