নজরবন্দি ব্যুরোঃ মমতার নির্বাচনী কার্যালয়ের মালিক শুভেন্দুর এজেন্ট, আজব ঘটনার সাক্ষী নন্দীগ্রাম। রাজ্যে আট দফা নির্বাচনের প্রথম দফা শুরু হতে চলেছে আগামীকাল। এই নির্বাচনের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচ হতে চলেছে নন্দীগ্রামে। যেখানে মুখোমুখি হবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই খবরে নন্দীগ্রাম। মনোনয়ন জমা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আঘাত পাওয়া থেকে দুই দলের সংঘর্ষে আহত হওয়া বাদ যায়নি কিছুই।
আরও পড়ুনঃ বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে উত্তপ্ত সিতাই, চলল তীর-ধনুক নিয়ে হামলা।


তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে এবার প্রথম দফা নির্বাচন শুরুর আগে আজব ঘটনার সাক্ষী থাকল এবারের নির্বাচনের তারকা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। একাধারে যিনি বিজেপির এজেন্ট তিনিই আবার তৃণমূলের নির্বাচনী কার্যালয়ের মালিক। এমনই ঘটনা ঘটেছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্রে। সূত্রের খবর নন্দীগ্রাম-১ নম্বর ব্লকের মহম্মদপুরে এবং নন্দীগ্রাম-২ নম্বর ব্লকের রেয়াপাড়ায় দুটি পৃথক কার্যালয় রয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এছাড়া নন্দীগ্রাম-১ নম্বর ব্লক প্রশাসনিক অফিসের উল্টোদিকে একটি তিনতলা বাড়িতেও রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়। জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের প্রার্থী হওয়ার পর ওই কার্যালয় থেকেও নির্বাচনী কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানেই সূত্রপাত সমস্যার। কারণ, ওই কার্যালয়টি মেঘনাদ পালের নামে রয়েছে। আর স্থানীয় ব্লক তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সভাপতি মেঘনাদ পাল ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি নন্দীগ্রামে ভারতীয জনতা পার্টির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্য নির্বাচনী এজেন্টও তিনি।
এমন ঘটনা নিয়ে দুই দলের মধ্যে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। সমস্যা হয়েছে মেনে নিয়ে নন্দীগ্রাম-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ স্বদেশ দাস অধিকারী জানান, ব্লক সভাপতি যিনি থাকবেন তাঁর নামে ওই কার্যালয় চলবে বলেই আগেই চুক্তি হয়েছিল মেঘনাদ পালের সঙ্গে। পরবর্তী সময়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়লেও ওই বাড়িটি এখনও তাঁর নামেই রয়ে গিয়েছে। ফলে উনি যদি ওই বাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপত্তি জানান সে ক্ষেত্রে তাদের অসুবিধা হতে পারে। বলেও জানান নন্দীগ্রাম-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ স্বদেশ দাস অধিকারী। এ বিষয়ে মেঘনাদ পাল জানান, তিনি দল ছাড়ার পরেও তৃণমূল এটা নিয়ে কিছুই করেনি। তাই তিনিও এবিষয়ে কিছু বলবেন না। অন্যদিকে উনি তৃণমূল ছাড়ার পরেও দলের কার্যালয় ফেরত দেননি, বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল সভাপতি সৌমেন মহাপাত্র। ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ করে সিপিএমের জেলা সম্পাদক বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি এখনও বলছি, তৃণমূল এবং বিজেপির গোপন বোঝাপড়া রয়েছে। নন্দীগ্রামের এই ঘটনায় সেটাই প্রমাণিত’।
মমতার নির্বাচনী কার্যালয়ের মালিক শুভেন্দুর এজেন্ট, আজব ঘটনার সাক্ষী নন্দীগ্রাম। প্রসঙ্গত জানা গিয়েছে যে, নন্দীগ্রাম বাজার পার্শ্ববর্তী ওই এলাকায় মেঘনাদ পাল ব্লক সভাপতি থাকার কারণে তাঁর নামেই জমি কেনা হয়। পরে সেখানেই তিনতলা দলীয় কার্যালয় তৈরি হয়। এরপর চলতি বছর মেঘনাদ পাল গেরুয়া শিবিরে যোগদান করলেও। ওই জমি বাড়ি হস্তান্তর করেন নি। এই ঘটনার প্রভাবে নির্বাচনের আগে কিছুটা অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে শাসকদলে।









