ভারতের এক দিনের দলের সহ-অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের (Shreyas Iyer) শারীরিক অবস্থার ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে। কয়েক দিন আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তৃতীয় ওয়ানডে চলাকালীন মাঠে ফিল্ডিংয়ের সময় গুরুতরভাবে আহত হন তিনি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর প্লীহায় ক্ষত তৈরি হয়েছিল এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। এখন পরিস্থিতি স্থিতিশীল, তবে শ্রেয়সকে এখনও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অস্ত্রোপচার নয়, বিশেষ চিকিৎসায় উন্নতি
শ্রেয়সের চিকিৎসা নিয়ে প্রথমে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। ক্রিকেট সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইট দাবি করেছিল, তাঁর প্লীহার ক্ষত সারাতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) সচিব দেবজিৎ শইকীয়া এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি জানান, “শ্রেয়সের কোনও অস্ত্রোপচার হয়নি। বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে চিকিৎসকেরা ক্ষত সারিয়ে তুলেছেন। একে অস্ত্রোপচার বলা যায় না।”


বোর্ড সচিব আরও জানিয়েছেন, শ্রেয়স মঙ্গলবার তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। “ওর কণ্ঠে প্রাণশক্তি ফিরে এসেছে। সিডনিতে থাকা ওর এক বন্ধু বাড়ি থেকে খাবার বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই খাবারই খেয়েছে শ্রেয়স,” বলেন তিনি।
চিকিৎসকদের ধারণার থেকেও দ্রুত সেরে উঠছেন শ্রেয়স আইয়ার
দেবজিৎ শইকীয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রেয়স প্রত্যাশার থেকেও দ্রুত সেরে উঠছেন। “ভারতীয় দলের চিকিৎসক রিজ়ওয়ান খান ওর পাশে রয়েছেন সিডনিতেই। সাধারণত এই ধরনের চোট সারতে ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগে। তবে শ্রেয়সের উন্নতির গতি দেখে মনে হচ্ছে, আরও আগে মাঠে ফিরতে পারে,” বলেন তিনি।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকেরা শ্রেয়সের উন্নতিতে সন্তুষ্ট। তিনি এখন স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করেছেন। সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে আইসিইউ থেকে সাধারণ কক্ষে স্থানান্তর করেছে। বিসিসিআই সূত্রে খবর, চিকিৎসকেরা আপাতত নিয়মিত স্ক্যান ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাঁর অবস্থার দিকে নজর রাখছেন।


বিসিসিআইয়ের অফিসিয়াল বিবৃতি
বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, “২৫ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে শ্রেয়স আইয়ারের পেটে আঘাত লাগে। এর ফলে তাঁর প্লীহায় ক্ষত তৈরি হয় ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হয় এবং রক্তপাত বন্ধ করা হয়। ২৮ অক্টোবর করা নতুন স্ক্যানে দেখা যায়, ক্ষতস্থানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। শ্রেয়স এখন স্থিতিশীল এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।”
বোর্ড আরও জানিয়েছে, সিডনি এবং ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনার পরেই চিকিৎসা চলছে। বিসিসিআইয়ের মেডিক্যাল টিম তাঁর অবস্থার উন্নতি প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করছে। সাধারণত এই ধরনের চিকিৎসায় হাসপাতালে সাত থেকে দশ দিন পর্যন্ত থাকতে হয়, তাই শ্রেয়সকেও আরও কিছু দিন হাসপাতালে থাকতে হবে।
সিডনির সেরা হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা
সূত্রের খবর, শ্রেয়সকে সিডনির অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন তাঁকে। যদিও চোটটি ভয়ঙ্কর ছিল, তবু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।
একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, “রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে এবং ক্ষতস্থান সেরে উঠছে দ্রুত। শ্রেয়সের ফিটনেস মানসিক শক্তি তাঁকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করছে।”
শীঘ্রই মাঠে ফেরার আশা
চিকিৎসকদের অনুমান অনুযায়ী, শ্রেয়সের পুরোপুরি সেরে উঠতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে আশাবাদী বিসিসিআই। বোর্ড সচিবের কথায়, “ও এখন অনেকটাই ভালো আছে। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা শুরু করেছে। আমাদের আশা, খুব তাড়াতাড়ি শ্রেয়স আইয়ারকে আবার ভারতের জার্সিতে দেখা যাবে।” এই ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, ভারতীয় দলের খেলোয়াড়রা কতটা শারীরিক ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামেন। শ্রেয়স আইয়ারের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে গোটা ক্রিকেটপ্রেমী দেশ।







