নজরবন্দি ব্যুরোঃ শর্মিলা ঠাকুর, বলিউড হোক কিংবা টলিউড দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই তিনি তার অভিনয়ের জন্য বিশেষভাবে চর্চিত। তার রুপে এবং গুনে একসময় মাতোয়ারা ছিল বলিউড থেকে টলিউড। অপুর সংসার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়েসে সিনেমা জগতে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম সিনেমা থেকেই এই হরিণী চোখের অভিনেত্রী দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন। ১৯৭০-এর দশকের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক গ্রহীতা অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি। আজ তারই জন্মদিন।
আসুন জন্মদিনে তার জীবনের কিছু জানা অজানা তথ্য জেনে নেওয়া যাক। শর্মিলা ঠাকুরের জন্ম হয়, ১৯৪৬ সালের ৮ ডিসেম্বরে হায়দ্রাবাদে। বিশিষ্ট ঠাকুর পরিবারের সন্তান তিনি। গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বংশধর এবং অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয় হন তিনি। বিখ্যাত ক্রিকেটার মনসুর আলি খান পাতৌদির স্ত্রী তিনি। অন্যদিকে শর্মিলা ঠাকুরের সন্তান সইফ আলি খান বলিউডের একজন সফল অভিনেতা। অভিনেত্রীর মেয়ে সোহা আলি খানও বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

শর্মিলা ঠাকুর যখন ১৩ বছর ছিলেন তখন থেকেই তার মধ্যে অভিনয়ের প্রতি এক আলাদা ভালবাসা জন্ম নিতে শুরু করে। ১৪ বছর বয়েসে অভিনয়ে হাতেখড়ি হওয়ার ফলে তার পক্ষে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করা কষ্টসাধ্য হয়ে হয়ে উঠছিল। এমনকি তিনি সিনেমা থেকে এত জনপ্রিয় তা পাওয়ার পরেও অভিনয় জগত থেকে সরে আসার কথা ভেবেছিলেন। তার এই কঠিন সময় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তার বাবা। বাবার পরামর্শে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে অভিনয়েই পুরোপুরিভাবে মগ্ন হয়ে যান।

সামাজিকভাবে প্রচলিত গতানুগতিক ধারা ভেঙ্গে তার অভিনয় জগতে আসার সিদ্ধান্ত যে কতটা মধুর ছিল, তা বর্তমানে টের পেতে বাকি নেই। এই কঠিন সিদ্ধান্তের কারনেই বাংলা চলচ্চিত্র তার অন্যতম নক্ষত্রটি পেয়েছিলেন। অপুর পাঁচালিতে অভিনয়ের পরের বছরেই অভিনেত্রী ‘দেবী’ সিনেমায় সুযোগ পান। এই সিনেমাটিতে অভিনয় করে লাইম লাইটে চলে আসেন অভিনেত্রী।

এরপর একের পর এক ছবিতে মুখ্য চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পান অভিনেত্রী। ‘শেষ অঙ্ক’ সিনেমায় তিনি মহানায়ক উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ পান। বানিজ্যিক ভাবে ছবিটি ব্যাপক সফল হয়। ‘আমনে সামনে’, ‘মেরে হামদাম মেরে দোস্ত’, ‘হামসায়া’, ‘সত্যকাম’, ‘তালাশ’ তার অভিনীত সিনেমাগুলি বক্সঅফিসে দারুন সাফল্যমণ্ডিত হয়। ১৯৭০ সালে মুক্তি পায় সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ১৯৭১ সালে ‘সীমাবদ্ধ’। এই ছবিদুটিতে তার অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কেটে দেয়। এর পর বেশ কিছু হিন্দি ছবিতে যেমন ‘সফর’, ‘অমর প্রেম’, ‘রাজারানি’, ‘দাগ’, ‘আ গালে লাগ যা’, ‘দাস্তান’ ব্যাবসায়ীক ভাবে দারুন সফল হয়।

অভিনেত্রীকে শুধুমাত্র মহানায়ক উত্তমকুমার নয় তৎকালীন বহু দাপুটে অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক, রাজেশ খান্না, দিলিপ কুমার, শশী কাপুর, অমিতাভ বচ্চনের সাথে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। এই সুন্দরী দাপুটে অভিনেত্রীর ঝুলিতে বহু পুরস্কার ও সম্মান রয়েছে যা গুনে শেষ করা দুষ্কর। ২০১৩ সালে তিনি পদ্মভূষণ পান। ১৯৭৫ এবং ২০০৩ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান মৌসম এবং আবার অরণ্য সিনেমার জন্য। ১৯৭০ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেছিলেন অভিনেত্রী।
জন্মদিনে ফিরে দেখা শর্মিলা ঠাকুরের ‘অজানা’ কাহিনী, তার সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান পিতার

১৯৯৮ সালে পেয়েছিলেন আজীবন সম্মাননা। এছাড়াও বহু পুরস্কার এবং সম্মান তিনি তার দীর্ঘকর্মজীবনে পেয়েছিলেন। চিরযৌবনা শর্মিলা ঠাকুর তার সৌন্দর্য, প্রতিভা ও ব্যক্তিত্বের মাধুর্য দিয়ে সকলের মনের কোঠরে জায়গা করে নিয়েছে। ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রকে নজরবন্দির তরফ থেকে জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা, তিনি এইভাবেই আরও হাজার বছর বেঁচে থাকুক সকল ভক্তদের মনে।







