তৃণমূলের তিন প্রাক্তন সাংসদের বিজেপিতে যোগদানের পর রাজ্য রাজনীতিতে যখন নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তখনই দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শমীক ভট্টাচার্য। শুক্রবার হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় সাংগঠনিক বৈঠকে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে তিনি জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় স্তরে নেওয়া রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজ্য সংগঠনের নীতি গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সংগঠনে ‘তৃণমূলীকরণ’-এর কোনও সুযোগ নেই।
হাওড়া গ্রামীণ জেলার মনসাতলায় দলীয় কোর কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর দেউলটিতে বিজেপির দীনদয়াল উপাধ্যায় মহা প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত হন শমীক ভট্টাচার্য। সেখানে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেব বিজেপিতে যোগ দেন। সেই যোগদান নিয়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক জল্পনার প্রেক্ষিতেই শুক্রবার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, এই তিন নেতাকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত মূলত জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সংসদীয় কার্যক্রমের প্রয়োজন বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল ও সংসদীয় কৌশলের কথা মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাকরি বিক্রি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ। নতুন যোগদানকারী তিন নেতার বিরুদ্ধে তেমন কোনও অভিযোগ নেই বলেই তাঁদের দলে স্বাগত জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এখন তাঁদের পরিচয় শুধুই বিজেপি নেতা।
তবে রাজ্যের সংগঠন নিয়ে দলের অবস্থান বদলায়নি বলেও জোর দিয়ে জানান শমীক। তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গে নির্বিচারে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিজেপিতে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। দলীয় কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “ভালো তৃণমূল বা খারাপ তৃণমূল বলে আলাদা কিছু নেই। তৃণমূল মানেই তৃণমূল। রাজ্যে তৃণমূলের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইল যে, কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কৌশল এবং পশ্চিমবঙ্গের সাংগঠনিক নীতি আলাদা বিষয়। ফলে তৃণমূল থেকে যোগদানের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতেই এই অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।



