‘ভারতকে নাড়ানো যাবে না’, ২৬/১১ থেকে দিল্লি বিস্ফোরণ, অবশেষে মুখ খুললেন কিং খান

মুম্বইয়ের ‘পিস অফ অনার্স’ মঞ্চে ২৬/১১, পহেলগাঁও হামলা ও দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন শাহরুখ। বললেন, ঐক্য থাকলে ভারতকে দুর্বল করা অসম্ভব।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রতি বছর নভেম্বর এলেই ২৬/১১–এর ভয়াবহ রাত আবার নতুন করে কাঁপিয়ে তোলে দেশবাসীর হৃদয়। ২০০৮ সালের সেই মুম্বই হামলা আজও ভারতীয়দের মনে গভীর দাগ কেটে রয়েছে। এর মধ্যেই দেশে সাম্প্রতিক পহেলগাঁও হামলা এবং দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনাও নতুন আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। এই সমস্ত ঘটনায় সাধারণ মানুষ যেমন ব্যথিত, তেমনই নাড়া লেগেছে শিল্পীমহলেও। এবার সেই ব্যথার সুর আরও একবার তুলে ধরলেন বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান। শাহরুখ খান ২৬/১১ বক্তব্য এখন দেশের মানুষের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

শনিবার মুম্বইয়ে আয়োজিত ‘পিস অফ অনার্স’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২৬/১১, পহেলগাঁও ও সাম্প্রতিক দিল্লি বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবার। সেনা জওয়ান ও শহিদদের উদ্দেশ্যে সেখানে নিজের আবেগঘন বক্তব্য রাখেন শাহরুখ। বাদশার কথায় ঝরে পড়ে এক গভীর দেশপ্রেম।

‘ভারতকে নাড়ানো যাবে না’, ২৬/১১ থেকে দিল্লি বিস্ফোরণ অবশেষে মুখ খুললেন কিং খান

শাহরুখ বলেন, “২৬/১১, পহেলগাঁও ও দিল্লি বিস্ফোরণে নিহত সকলকে আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। ভারতীয় সেনার সাহস ও আত্মত্যাগই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে।” তাঁর এই বক্তব্য মুহূর্তে অনুষ্ঠানের আবহ আরও আবেগঘন করে তোলে।

এরপর শাহরুখ খানকে জওয়ানদের উদ্দেশে চারটি বিশেষ পংক্তি বলতে অনুরোধ করা হয়। তিনি বলেন, “যদি কেউ জিজ্ঞেস করে আপনি দেশের জন্য কী করেছেন, তাহলে উত্তর দিন—আমি আমার দেশকে রক্ষা করেছি। কেউ যদি বলেন আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন কী, তাহলে বলুন—১৪০ কোটি ভারতীয়র আশীর্বাদ ও ভালোবাসা।”

বাদশার কণ্ঠে তখন একটিই দৃঢ় ঘোষণা—“ভারতকে নাড়ানো যাবে না। শত্রুদের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া। কারণ ঐক্য আর দৃঢ়তা থাকলে ভারতকে দুর্বল করার সাহস কেউ দেখাতে পারবে না।”

২৬/১১ থেকে দিল্লি বিস্ফোরণ অবশেষে মুখ খুললেন কিং খান
২৬/১১ থেকে দিল্লি বিস্ফোরণ অবশেষে মুখ খুললেন কিং খান

তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই শান্তির পথ খুঁজে নিই। জাতি, ধর্মের বিভাজন ভুলে একত্রে দাঁড়াতে পারলেই দেশকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, ঐক্যই ভারতের আসল শক্তি।

অনুষ্ঠানে শহিদ পরিবারগুলিকে সম্মান জানাতে গিয়ে আবারও স্মরণ করা হয় ১৭ বছর আগের মুম্বইয়ের কালরাত। পাশাপাশি চলতি বছরের পহেলগাঁও হামলা এবং দিল্লি বিস্ফোরণের শিকার পরিবারগুলিকেও জানানো হয় শ্রদ্ধা। উপস্থিত দর্শকরা শাহরুখের কথায় শোক, দৃঢ়তা আর গর্ব—সব অনুভূতিই একসঙ্গে পেয়েছেন।

শাহরুখ খান ২৬/১১ বক্তব্য শুধু অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর ভিডিও। দেশবাসী তাঁর সংহতি ও দৃঢ় মনোভাবের প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন মন্তব্যবক্স।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, যখন দেশ জুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন শাহরুখের এহেন বক্তব্য যেন মানুষের মনে নতুন করে বিশ্বাস জাগায়—ভারত কখনও ভাঙবে না, কখনও থামবে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত