নজরবন্দি ব্যুরোঃ স্কুল সার্ভিস কমিশন হোক, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ। প্রতি ক্ষেত্রেই নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশে চাকরি গেছে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ের। রীতিমত ভয়ে কাঁপছে অভিযুক্তরা। কেউ জানেনা কখন কার দুয়ারে কড়া নাড়বে সিবিআই। এই পরিস্থিতিতে সামনে এসেছে বিশিষ্ট আইনজীবী অরুণাভ ঘোষের মন্তব্য। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিচ্ছেন না, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ অরুণাভর!
আরও পড়ুনঃ ইন্টারভিউ ছাড়াই চাকরি হয়েছে, অবশেষে আদালতে স্বীকার করল পর্ষদ!
বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অনধিকার বিচারের অভিযোগ এনেছেন রাজ্যের অন্যতম বিশিষ্ট আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ। রাজ্য কংগ্রেসের শীর্ষ স্তরের নেতা অরুণাভ ঘোষ কট্টর তৃণমূল বিরোধী বলেই পরিচিত। কিন্তু এবার তিনি কিছুটা রাজ্য সরকারের পক্ষেই সওয়াল করেছেন ২ দিন আগে। অরুণাভ বলেন, বিচারপতি সিবিআই তদন্তের (CBI Probe) নির্দেশ দিতে পারেন। কিন্তু তিনিই ঠিক করে দিচ্ছেন কে কখন সিবিআই দফতরে হাজিরা দেবেন। অথচ যাঁদের এই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে তাঁরা কেউ ফেরার আসামী নন।

এরপরেই নিজের ১৭ নম্বর এজলাসে সরব হন বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলি। স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শুনানির সময়ে বৃহস্পতিবার কারও নাম না করে বিচারপতি অভিজিত্ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, “কোনও এক জ্যাঠামশাই বলে বেড়াচ্ছেন অভিজিত্বাবু এটা করেননি অভিজিত্বাবু ওটা করেননি। কে এটা করছেন আমি জানি। তাঁর বিরুদ্ধে আমি তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছি। এক-দু’মাসের মধ্যে তিনি টের পাবেন।’

অভিজিৎ বাবুর এই মন্তব্যের আজ উত্তর দিয়েছেন অরুণাভ ঘোষ। বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলি সম্পর্কে অরুণাভ ঘোষ বলেন, ‘আমি জরুরি অবস্থার বিরোধিতা করে জেল খেটেছি। বিধানসভায় স্পিকারের অন্যায়ের প্রতিবাদ করাতেও আমার জেল হয়েছিল। প্রয়োজন হলে আবার জেলে যাব। তবু বিচারের নামে বিচারপতির অনাচার মানব না।’ তাঁর কথায়, ‘ওই বিচারপতির ক্ষমতা থাকলে আমাকে জেলে পাঠান। ক্ষমতা থাকলে আমার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করুন। দেখি উনি কতদূর যেতে পারেন।’
‘বিচারের নামে অনাচার মানব না, ক্ষমতা থাকলে আমাকে জেলে পাঠাক!’ অভিজিৎ গাঙ্গুলিকে হুঙ্কার অরুণাভর!

কদিন আগেই অরুণাভ ঘোষ বলেছিলেন, ওই বিচারপতি(অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়) কাউকে চাকরি থেকে অপসারণ করছেন। বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ জারি করছেন। কাউকে পদ থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন। অথচ, নির্দেশ জারির আগে তাঁদের বক্তব্য শুনছেন না। অভিযোগ যত গুরুতর হোক না কেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ সকলের প্রাপ্য। কিন্তু শিক্ষা সংক্রান্ত মামলায় বিচার ব্যবস্থার সেই মৌলিক কর্তব্য অগ্রাহ্য করছেন বিচারপতি।



