নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই নতুন অভিযোগ উঠছে। বিচারপতির ধমক আর তিরস্কার শুনতে শুনতে কান ব্যাথা হয়ে গিয়েছে পর্ষদের আইনজীবীদের। কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে কই? হাতে নাতে প্রমান হওয়ার পরেই সিবিআই রদন্ত থেকে বাঁচতে অভিযুক্তরা কেউ ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছেন কেউ আবার সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু এবার বেনিয়মের কথা স্বীকার করে নিল পর্ষদ। মেনে নিল অঙ্কিতার চাকরি হয়েছে পরীক্ষায় না বসেই।
আরও পড়ুনঃ PF-এর অনুদান বাড়ছে, সপ্তাহে তিন দিন ছুটি! ১ জুলাই থেকে চালু হচ্ছে নয়া শ্রম আইন।
কয়েকদিন আগে মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম অভিযোগ করেন ২ হাজার ৭৮৭ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে, যারা ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষাতেই বসেননি! এই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ২ হাজার ৭৮৭ জনের চাকরির আবেদনপত্র আদালতের কাছে জমা দিতে বলেছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। পর্ষদ ওই ২ হাজার ৭৮৭ জনের চাকরির আবেদন পত্র জমা দিতে পারেনি। সেই নথি নাকি হারিয়ে গিয়েছে।

একই অভিযোগ ছিল মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতাকে নিয়ে। অঙ্কিতা নাকি পরীক্ষাতেই বসেননি। এই প্রসঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, মামলাকারী ববিতার নম্বর বেশি থাকা সত্ত্বেও ‘লজ্জাজনক ভাবে’ অঙ্কিতাকে ওই তালিকায় এক নম্বরে এনে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। অঙ্কিতাকে চাকরি দেওয়া না হলে ববিতা পেতেন। কারণ, তাঁর নাম ওয়েটিং লিস্টে ২০ নম্বরে ছিল। অঙ্কিতা এক নম্বরে আসায় ববিতার নাম যায় ২১ নম্বরে।

শুক্রবার এসএসসি সংক্রান্ত মামলায় প্রথমবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদ স্বীকার করে নিল যে অঙ্কিতা অধিকারী কোন ইন্টারভিউতে বসেননি। ইন্টারভিউ ছাড়াই চাকরি হয়ে গিয়েছিল তাঁর। এদিকে নয়া অভিযোগ উঠেছে নাবালককে চাকরি দেওয়ার। সূত্রের খবর টেটে পর্ষদের বিরুদ্ধে মামলাকারীরা এবার নতুন অস্ত্র প্রয়োগ করতে চলেছেন। সূত্রের দাবি, পর্ষদ এক নাবালককেও শিক্ষকের চাকরির পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিয়েছিল। যদিও সে অকৃতকার্য হয়।
ইন্টারভিউ ছাড়াই চাকরি হয়েছে, অবশেষে আদালতে স্বীকার করল পর্ষদ!

তবুও তার হাতে আসে চাকরির অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার। পর্ষদ তাকে ২০১৭ সালে প্রাথমিকের শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করার নিয়োগপত্র দেয়। সেই নাবালক চাকরি অর্থাৎ প্রাথমিকে শিক্ষকতা করছেন পুরোদমে, বেতনও নিচ্ছেন।
সূত্রের খবর, এই নাবালক ২০১৪ সালে যখন টেট পরীক্ষায় বসে তখন তাঁর বয়েস ছিল ১৬ বছর ৯ মাস। অর্থাৎ সাধারণ হিসেবে তখন তার একাদশ শ্রেণীতে পড়ার কথা। অভিযোগ এই নাবালক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। পরে টাকার বিনিময়ে ২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে চাকরির নিয়োগপত্র দেয় পর্ষদ। অসমর্থিত সূত্রের দাবি, এমন নাবালকের সংখ্যা নাকি ১-২ জন নয়, জনা ২০!



