৫৫ দিন অন্তরালে থাকার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোররাতে মিনাখাঁ থেকে গ্রেফতার হলেন সন্দেশখালিকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত তথা তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান। কিন্তু গ্রেফতারির পরেও স্বমেজাজেই রয়েছেন দ্বীপাঞ্চলের ‘বেতাজ বাদশা’। জেরায় একটি প্রশ্নেরও উত্তর দেননি তিনি এমনটাই খবর সিআইডি সূত্রে। বরং হেঁয়ালি করছেন তিনি। আরও জানা গিয়েছে, রাতে তাঁকে খাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও কিছুই খাননি শাহজাহান।
আরও পড়ুন: কুণাল ঘোষ মুছলেন রাজনীতিবিদ পরিচয়, অভিমানের জের!


মিনাখাঁ থেকে গ্রেফতারির পর বসিরহাট মহকুমা আদালতে নিয়ে আসা হয় শেখ শাহজাহানকে। গ্রেফতারির পরেও ভয়ডরহীন চেহারায় দেখা যায় সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’-কে। পরনে ছিল সাদা জামা, সাদা প্যান্ট, সাদা জুতো! আদালতে প্রবেশের মুখে আঙুল নেড়ে কিছু ইঙ্গিত করেন তিনি। যার অর্থ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। অথচ তাঁর নামে দায়ের হয়েছে ৪২টি কেস!

বসিরহাট মহকুমা আদালত শেখ শাহজাহানকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তভার নিয়েছে সিআইডি। জেরায়, ৫ জানুয়ারি ইডি-র ওপর হামলায় তাঁর ইন্ধন ছিল সে কথা স্বীকার করে নিলেও বিভিন্ন রকম হেঁয়ালি করছেন শেখ শাহজাহান। এক প্রশ্নের উত্তর বারবার দেবেন না বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। শুক্রবার ফের একবার তাঁকে জেরা করা হবে বলে সিআইডি সূত্রে খবর।



জেরায় মুখে কুলুপ শাহজাহানের, রাতে কিছুই খেলেন না সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’
প্রসঙ্গত, সন্দেশখালি-১ নম্বর ব্লকের সভাপতির পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগণার জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ কর্মাধ্যক্ষের পদেও ছিলেন শেখ শাহজাহান। গ্রেফতারির পর এই দুই পদ থেকেই ৬ বছরেরজন্য সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল। তবে, বিরোধীদের অভিযোগ স্পষ্ট, চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে শাহজাহানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বিগত এক মাস ধরে উত্তপ্ত সন্দেশখালি। শেখ শাহজাহান ও তাঁর দুই অনুগামী উত্তম সর্দার-শিবু হাজরার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে গ্রামবাসীরা। আগেই উত্তম ও শিবু গ্রেফতার হলেও শাহজাহানের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে, অবশেষে গ্রেফতার হলেন তিনিও। কিন্তু এই গ্রেফতারি কি কেবলই লোক দেখানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত? প্রশ্ন উঠছে…







