নজরবন্দি ব্যুরোঃ স্বাস্থ্য ভবনে ঢুকেছিলেন শুভেন্দু, গত মাসের শেষের দিকে রাজ্যে ভুয়ো ভ্যাকসিন কান্ডের ঘটনা সামনে আসতেই সদলবলে স্বাস্থ্য ভবনে গিয়ে পৌঁছেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। সঙ্গে বিজেপি বিধায়করা। রাজ্যের এই কঠিন পরিস্থিতিতে জাল ভ্যাকসিন কান্ডের সঠিক তদন্ত চেয়ে নালিশ করেছিলেন তিনি এবং তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ দু বারে দু রকম ভ্যাকসিন? হতে পারে বিপদ, জানালেন হু-এর বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন।
দরবার করে বেরিয়ে অধিকারী জানিয়েছিলেন, তিনি জানতেন নবান্নে কোন বিষেশ কাজ না থাকায় স্বাস্থ্য সচিব থাকেন ভবনেই, তাই তড়ঘড়ি সফর সেরেছিলেন। সঙ্গে আরও বলেছিলেন বিনা নোটিসে এলে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন না সচিব, তাই এই না জানিয়ে আগমন।
এহেন আচমকা দলবল নিয়ে শুভেন্দুর স্বাস্থ্য ভবনে গিয়ে ওঠাকে ভালোভাবে নেয়নি কেউই। ভবন থেকে মুখ্যমন্ত্রী, অস্বস্তি-বিরক্ত প্রকাশ পেয়েছিল সকলের কথায়। তার পর থেকেই এক প্রকার কড়াকড়ি হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
স্বাস্থ্য ভবনে ঢুকেছিলেন শুভেন্দু, পরের দিন থেকেই নিরাপত্তা কড়া করেছে নবান্ন।

তবে এবার তার আঁচ গিয়ে লাগলো অন্যের গায়ে। স্বাস্থ্য ভবনে ঢুকেছিলেন শুভেন্দু, তাঁকে দরজায় আটকাতে না পারারা দায়ে চাকরি খোয়াতে হচ্ছে নিরাপত্তা রক্ষীকে। বছর ৬৩ এর সুশীল দাসকে খোয়াতে হচ্ছে নিজের কাজ। ষাটোর্দ্ধ দাস আগে ছিলেন বিএসএফ কর্মী। পরে যোগ দেন স্বাস্থ্য ভবনের নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে।
সূত্রের খবর যে বেসরকারি সংস্থার তরফ থেকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি সেখান থেকে জানানো হয়েছে তাঁকে ছাড়তে হবে কাজ। কারণ হিসেবে উঠে আসছে ২৫ তারিখের কাজের গাফিলতার কথাই।
টাকির সুশীল দাসের স্ত্রী তৃণমূলের পঞ্চায়েত কর্মী, পুত্র অসুস্থ। সংসার চালাতে ৬০ বছরের পরেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু এখন কাজ হারিয়ে ভাবছেন বাকি দিন গুজরান হবে কিভাবে। এদিকে তার চাকরি খোয়ানোর ঘটনা প্রকাশ করে লিখেছেন খোদ শুভেন্দু অধিকারী।
স্বাস্থ্য ভবনে ঢুকেছিলেন শুভেন্দু, তাঁকে আটকাতে পারেননি বলেই চাকরি জাচ্ছে সুশীলের। ঘটনার কথা সামনে এনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা লিখেছেন, ২৫ তারিখে বিজেপি বিধায়করা গিয়েছিলেন স্বাস্থ্য ভবন, আর তার কোপে চাকরি খোয়াচ্ছেন সুশীল দাস। তাঁর অপরাধ সে আমাদের দরজায় আটকাতে পারেনি। তবে এসব শাসক-বিরোধী দলের রাজনীতির বাইরে কাজ হারিয়ে সুশীল দাস শুধু চাইছেন একটা সুযোগ, সংসার চালানোর জন্য একটা কাজ।



