পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের জোর চাঞ্চল্য। বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খান দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তত ৫০ জন বিধায়ক ও ২০ জন সাংসদ দল ছাড়তে প্রস্তুত। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সবুজ সংকেত দিলেই বড় ভাঙন দেখা যাবে বলেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার সৌমিত্র খানের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়। তাঁর দাবি, তৃণমূলের অন্দরে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং বহু নেতা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
সৌমিত্র খান বলেন, “বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অনুমতি দিলেই তৃণমূল বলে কিছু থাকবে না। প্রায় ৫০ জন বিধায়ক অসন্তুষ্ট, ২০ জন সাংসদও যোগ দিতে প্রস্তুত।”
শুধু তাই নয়, এই ইস্যুতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ। যদিও তাঁর অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়।
সৌগত রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, সৌমিত্র খানের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর কথায়, “এ ধরনের কোনও পরিস্থিতি নেই। বিজেপি বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।”
এরই মধ্যে তৃণমূলের অন্দরে একাধিক পদত্যাগ এবং রাজনৈতিক অস্বস্তি নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পুরসভায় কাউন্সিলরদের ইস্তফা ঘিরে চাপ তৈরি হয়েছে শাসকদলের উপর।
বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন পুরসভায় পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। ভাটপাড়া পুরসভায় চেয়ারম্যান রেবা রাহা-সহ ৩৫ জনের মধ্যে ৩০ জন কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন বলে খবর। একই ধরনের পরিস্থিতির খবর এসেছে হালিশহর ও কাঁচরাপাড়াতেও।
ভাটপাড়ার ভাইস চেয়ারম্যান দেবজ্যোতি ঘোষ জানিয়েছেন, বেতন বকেয়া ও দলীয় নেতৃত্বের অসহযোগিতার কারণেই তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ইতিমধ্যেই পুরসভাগুলির অতীত কাজকর্ম খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, যেসব পুরসভায় কাউন্সিলররা নিয়মিত অফিসে আসছেন না, সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করা হচ্ছে।
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই দুর্নীতি তদন্ত নিয়েও চাপ বাড়ছে তৃণমূলের উপর। সম্প্রতি পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি।
সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সৌমিত্র খানের দাবি বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



