বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত, ভোটকুশলী সংস্থার ভূমিকা এবং তৃণমূলের নিচুতলার নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগ— সব কিছু নিয়েই খোলামেলা মন্তব্য করলেন প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। দলের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি স্বীকার করে নিলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল নিচুতলার দুর্নীতি ও তোলাবাজি।
নির্বাচনের ফল এতটা খারাপ হবে, তা তিনি নিজেও কল্পনা করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন সৌগত। তাঁর মতে, দলের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছিল। বহু বিদায়ী বিধায়কের টিকিট কাটা বা কেন্দ্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও ভোটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।


ভোটকুশলী সংস্থার ভূমিকাকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত নন এমন কিছু মানুষের পরামর্শের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দলের ক্ষতি করেছে। এই বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ক্ষোভ পৌঁছেছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
তবে শুধুমাত্র সাংগঠনিক ভুল নয়, দুর্নীতিকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সৌগত। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি সামনে আসার পরই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে ক্ষতি কিছুটা কমানো যেত। কিন্তু সময়মতো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়নি।
আরও তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি স্বীকার করেছেন, তৃণমূলের নিচুতলার একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল। তাঁর কথায়, অনেক স্থানীয় নেতা হয় সরাসরি তোলাবাজিতে জড়িয়েছিলেন, অথবা তা রোখার উদ্যোগ নেননি। এর ফলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমেছিল।


সৌগত রায় অবশ্য বিজেপির উত্থানের পিছনে একাধিক কারণের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সক্রিয় প্রচার, বিপুল আর্থিক ও সাংগঠনিক সমর্থন, হিন্দু ভোটের মেরুকরণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিতর্ক— সব মিলিয়েই নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
আরজি কর-কাণ্ডকেও তিনি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটিকে যথাসময়ে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। একইসঙ্গে সংখ্যালঘু ভোট ও বিজেপির তৈরি রাজনৈতিক ন্যারেটিভের মোকাবিলায় দল ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিভিন্ন পুরসভা ও সংগঠনে ভাঙনের ঘটনা সামনে আসছে। তবে সৌগতের মতে, যে কোনও রাজনৈতিক দল বড় পরাজয়ের পর ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়। তিনি মনে করেন, জনস্বার্থের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলেই ফের সংগঠনকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
সবশেষে প্রবীণ সাংসদ স্পষ্ট করেছেন, হারের দায় শুধুমাত্র নেতৃত্বের নয়, দলের একজন সদস্য হিসেবে সেই দায় তিনি নিজেও এড়িয়ে যাচ্ছেন না। রাজনৈতিক লড়াইয়ে ফিরে আসার জন্য আত্মসমালোচনাই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে তাঁর ইঙ্গিত।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



