রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ মহলেও বড়সড় পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট। পুলিশে বিরাট রদবদল করে একসঙ্গে ১৭৯ জন আইপিএস অফিসারের বদলির নির্দেশ জারি করেছে রাজ্য সরকার। বদলি করা হয়েছে ডায়মন্ড হারবার-সহ ১২ জন জেলা পুলিশ সুপারকে, যা প্রশাসনিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জেলায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের নতুন পদে পাঠানো হয়েছে। বীরভূমের পুলিশ সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদবকে কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) পদে নিয়ে আসা হয়েছে। অন্যদিকে জলপাইগুড়ির এসপি অমরনাথ কে পদোন্নতি পেয়ে উত্তরবঙ্গ ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন।
পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারিকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি (আর্মড পুলিশ) পদে নিয়োগ করা হয়েছে। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার মিস পুষ্পাকে পাঠানো হয়েছে পূর্ব বর্ধমানে।
রদবদলের তালিকায় রয়েছে বাঁকুড়ার এসপি সৌমাদিত্য ভট্টাচার্যের নামও। তাঁকে মালদহে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তলকেও বর্তমান পদ থেকে সরানো হয়েছে। হুগলি গ্রামীণের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজকে নতুন করে পুরুলিয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার শুভেন্দ্রা কুমারকে কলকাতা পুলিশের ওয়্যারলেস শাখায় পাঠানো হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সুপার ঈশানী পাল এবার কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ-পশ্চিম বিভাগের ডেপুটি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়াও বেঙ্গল এসটিএফের সুপার পারিজাত বিশ্বাসকে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চে বদলি করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার সায়ক দাসকেও সরানো হয়েছে। বেঙ্গল এসটিএফের ডিআইজি সুধীরকুমার নীলাকান্তামকে সিআইএফ-এর ইন্সপেক্টর জেনারেল পদে নিয়োগ করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের আর্মড পুলিশের জয়েন্ট সিপি শুভঙ্কর ভট্টাচার্যকে ট্রাফিক বিভাগের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় এই ব্যাপক পুলিশি রদবদলকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। আগামী দিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যকারিতায় এই পরিবর্তনের প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে।



