তৃণমূলে বড় ধাক্কা! রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা সুখেন্দুশেখর রায়ের, দল ছাড়ার ঘোষণায় চাঞ্চল্য

রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য সুখেন্দু শেখর রায়ের। দুর্নীতি নিয়ে তুললেন একাধিক প্রশ্ন।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুখেন্দু শেখর রায়। শুধু পদত্যাগই নয়, দলীয় নেতৃত্ব ও সংগঠনের বর্তমান অবস্থান নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্যও করেছেন তিনি। দুর্নীতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য সমালোচনা নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সোমবার উপরাষ্ট্রপতির বাসভবনে গিয়ে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন সুখেন্দু শেখর রায়। ২০১১ সালে প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য হন তিনি। এরপর পরপর তিন দফায় তাঁকে সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠায় তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংসদ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, গত কয়েক বছর ধরেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল। বিশেষ করে আরজি কর আন্দোলনের সময় তাঁর অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ্যে মতভেদের ইঙ্গিত মিলেছিল। যদিও দীর্ঘদিন তিনি দলেই ছিলেন, তবে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে।

ইস্তফার পর দেওয়া বার্তায় সুখেন্দু শেখর রায় সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, দলের মধ্যে দুর্নীতি এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। তাঁর দাবি, দলে এখনও অনেক সৎ ও ভালো মানুষ রয়েছেন, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রভাব ক্রমশ বেড়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তাঁদের প্রভাবই বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মসমালোচনা জরুরি। ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতা হারানোর পরও রাজনৈতিক দলগুলি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে তার জন্য সংগঠনের ভেতরের বাস্তবতা স্বীকার করা প্রয়োজন।

সুখেন্দুর বক্তব্যে উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষোভও। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দলের মধ্যে কার্যত কোণঠাসা অবস্থায় ছিলেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের পাশে দাঁড়ালেও তাঁর মতামত বা পরামর্শ যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে একাধিকবার নিজের হতাশা প্রকাশ করেছিলেন প্রবীণ এই নেতা। দুর্নীতি এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

সুখেন্দু শেখর রায়ের এই পদত্যাগ এমন এক সময়ে এল, যখন নির্বাচনী পরাজয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে আত্মসমালোচনা, অসন্তোষ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। ফলে তাঁর এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক প্রভাব আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করার পর সুখেন্দুর বিদায় শুধু একটি সাংসদ পদ খালি হওয়ার ঘটনা নয়, বরং তৃণমূলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর