ভাঙনের মেঘ ইন্ডিয়া জোটে! স্ট্যালিন নেই, সিপিআইএম ক্ষুব্ধ, সোনিয়ার পাশে মমতা

ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের আগেই ডিএমকের বয়কট, সিপিএমের ক্ষোভ ও শরিকদের অসন্তোষ সামনে এসেছে। এর মধ্যেই সোনিয়া গান্ধীর পাশে মমতার উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা। একদিকে ডিএমকের বয়কট, সিপিএমের প্রকাশ্য অসন্তোষ এবং একাধিক শরিক দলের ক্ষোভ—অন্যদিকে বৈঠকে সোনিয়া গান্ধীর পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

রাজধানীর কনস্টিটিউশন ক্লাবে মঙ্গলবার শুরু হয়েছে বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন ২৩টি বিরোধী দলের নেতা ও প্রতিনিধিরা। বৈঠকে যোগ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, ওমর আবদুল্লা, তেজস্বী যাদব এবং অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা।

তবে বৈঠকের আগেই জোটের অন্দরেই মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। ডিএমকে এই বৈঠক বয়কট করেছে। সিপিএম অংশ নিলেও বৈঠক নিয়ে আগেভাগেই কড়া ভাষায় আপত্তি জানিয়েছিল। আপও অনুপস্থিত। অন্যদিকে আসন সমঝোতা নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অসন্তোষ রয়েছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চারও।

ভাঙনের মেঘ ইন্ডিয়া জোটে! স্ট্যালিন নেই, সিপিআইএম ক্ষুব্ধ, সোনিয়ার পাশে মমতা
ভাঙনের মেঘ ইন্ডিয়া জোটে! স্ট্যালিন নেই, সিপিআইএম ক্ষুব্ধ, সোনিয়ার পাশে মমতা

এমন পরিস্থিতিতে সামনে আসা একটি ছবি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সোনিয়া গান্ধীর একেবারে পাশে বসে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অন্য পাশে রয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বৈঠকের মধ্যেই তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা চলতেও দেখা গিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ছবি নিছক প্রোটোকলের বিষয় নয়। কারণ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে তৃণমূল ও কংগ্রেসের সম্পর্ক কার্যত সংঘাতের পর্যায়ে পৌঁছেছিল। আসন সমঝোতা হয়নি, বরং উভয় দলই একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছিল। বাংলায় এসে রাহুল গান্ধীও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন।

তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। তৃণমূলের পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন রাহুল গান্ধী। পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়। সেই থেকেই বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এর মধ্যেই গত রবীন্দ্রজয়ন্তীতে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সমস্ত বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে এক ছাতার তলায় আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু কংগ্রেস নয়, বাম ও অতিবাম দলগুলিকেও বৃহত্তর ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক সূত্রের খবর, লোকসভা ভোটের ধাক্কার পর সংসদে এবং রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কৌশল খুঁজছে তৃণমূল। সেই প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়া জোটের এই বৈঠকে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘একের বিরুদ্ধে এক’ প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাবও তুলতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে ভাঙনের আশঙ্কার মধ্যেও দিল্লির এই বৈঠক বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর