দিল্লির রাজনৈতিক অন্দরে নতুন জল্পনা। তৃণমূল সাংসদদের বিজেপিতে যোগদান ঘিরে তৎপরতা এখন তুঙ্গে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একাধিক তৃণমূল সাংসদের উপস্থিতি এবং শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠক ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—শুধু দলবদল নয়, তার আগে কী কী রাজনৈতিক নিশ্চয়তা চাইছেন বিদ্রোহী সাংসদরা?
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা বাড়ছে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও দলবদলের জল্পনা ঘনীভূত হয়েছে। সোমবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠক সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।


সূত্রের খবর, বিজেপিতে যোগদানের আগে বিদ্রোহী সাংসদদের প্রধান দাবি আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের টিকিট নিশ্চিত করা। নিজেদের বর্তমান কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হওয়ার নিশ্চয়তা চাইছেন তাঁরা। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করাই এই দাবির মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিরাপত্তা। রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের পর রাজ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন একাংশ সাংসদ। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
এছাড়াও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সাংসদ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বা প্রশাসনিক দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়েও আশ্বাস চাইছেন বলে খবর। কেন্দ্রীয় স্তরে বিভিন্ন কমিশন বা গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে।


সোমবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তৃণমূলের একাধিক সাংসদের উপস্থিতির খবর সামনে এসেছে। সূত্রের দাবি, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী, আবু তাহের, সুখেন্দু শেখর রায়, শর্মিলা সরকার, খলিলুর রহমান এবং জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া-সহ আরও কয়েকজন সাংসদ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী, বিপ্লব দেব-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
যদিও এই বৈঠকগুলির বিষয়ে কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি, তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, রাজ্যের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সংসদীয় শিবিরে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আগামী কয়েকদিনে এই সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



