রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। সিপিআইএম আন্দোলনকে সামনে রেখে নতুন করে সংগঠন শক্তিশালী করার রণকৌশল নিতে চলেছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও বিরোধী পরিসরে তৈরি হওয়া শূন্যস্থানকে কাজে লাগিয়ে জনসংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে জেলাগুলিকে লাগাতার আন্দোলনের প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে খবর, হকারদের সমস্যা, মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে গণআন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৩ ও ২৪ জুন সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণের পাশাপাশি আন্দোলনের রূপরেখা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে দীর্ঘদিন পর একটি আসন পাওয়ার পর সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করার উপর জোর দিচ্ছে বাম নেতৃত্ব। জেলাভিত্তিক এবং বুথভিত্তিক পর্যালোচনার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। সেই রিপোর্ট রাজ্য কমিটির বৈঠকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় নেতাদের একাংশের মতে, বুথস্তরের পর্যালোচনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রবণতা সামনে এসেছে। বিশেষ করে শহর ও মফস্বলের একাংশ হিন্দু ভোটার বিজেপির বিরোধিতা করলেও সেই ভোটের বড় অংশ তৃণমূলের দিকে গিয়েছে। কিছু ভোট সিপিএমের ঝুলিতেও এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সিপিএম নেতৃত্বের ধারণা, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু ভোটের পাশাপাশি এই অংশের ভোটারদের আস্থা ফেরানো গেলে ভবিষ্যতে সংগঠনের জনভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে। সেই বিষয়টি রাজ্য কমিটির বৈঠকে গুরুত্ব পেতে চলেছে।
পাশাপাশি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে বুথ ও শাখা স্তরে সংগঠনের যে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় রাখতে ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বেকারত্ব, কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দাম, শ্রমিকদের অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো বিষয়কে সামনে রেখে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়েছে দলের একাংশ। শুধু বিবৃতি নয়, সরাসরি মানুষের মধ্যে পৌঁছনোর কৌশলেই জোর দিতে চাইছে সিপিএম।
একইসঙ্গে নতুন প্রজন্মকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা এবং ছাত্র-যুব আন্দোলনের বিস্তার ঘটানোও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই সময়ে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে আন্দোলনকেই প্রধান হাতিয়ার করতে চাইছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।



