রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে বিশ্বাস পরিবার। শ্লীলতাহানি ও তোলাবাজি মামলায় গ্রেফতার স্বরূপ বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার সাহাপুরে অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের বাড়িতে তল্লাশি চালাল পুলিশ। নিরাপত্তার স্বার্থে বিপুল পুলিশবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয় এলাকায়।
সোমবার সকালে সাহাপুরের ওই ঠিকানায় পৌঁছয় কলকাতা পুলিশের একাধিক দল। সঙ্গে ছিলেন তদন্তকারী আধিকারিকরাও। সূত্রের খবর, তল্লাশি অভিযানে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল তথ্য বা মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রমাণ মেলে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই কারণেই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তল্লাশি চলাকালীন এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও চলাচলের উপরও নজর রাখা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ৪ জুন শ্লীলতাহানি ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন স্বরূপ বিশ্বাস। দীর্ঘদিন টলিউডের টেকনিশিয়ান সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা স্বরূপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এক মহিলা মেক-আপ শিল্পীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়।
তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে স্বরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক তথ্য সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই সাহাপুরের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেও ঘিরে আইনি চাপ বাড়ছে। মেসি-সংক্রান্ত বিতর্কিত অনুষ্ঠানের মামলায় আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। নির্ধারিত দিনে থানায় হাজিরা না দেওয়ায় পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও সূত্রের খবর।
তদন্তকারী সংস্থার একাংশের মতে, দুটি পৃথক মামলার তদন্ত চললেও বিশ্বাস পরিবারের একাধিক সম্পত্তি ও নথি এখন তদন্তের আওতায় এসেছে। সেই কারণেই তল্লাশি অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এখন নজর রয়েছে এই তল্লাশি থেকে কী তথ্য সামনে আসে এবং অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, তার উপর। কারণ সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বিশ্বাস পরিবারকে ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, সাহাপুরের বাড়িতে পুলিশের এই তল্লাশি নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর সবার।



