পাটনার কোচিং সেন্টার-কাণ্ডে আইনি জট কাটার আগেই নতুন বিতর্কে জড়ালেন জনপ্রিয় শিক্ষক ও ইউটিউবার ফয়জাল খান ওরফে খান স্যর। একদিকে গুলিচালনা ও সংঘর্ষ মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে, অন্যদিকে দিল্লি হাই কোর্টে এক মহিলা সাংবাদিকের দায়ের করা ২ কোটি টাকার মানহানি মামলা তাঁকে আরও চাপে ফেলেছে।
কোচিং সেন্টারকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকেই আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন খান স্যর। পাটনায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের সামনে অশান্তি ও গুলিচালনার অভিযোগে তদন্ত চলছে। সেই মামলায় তাঁর নাম জড়ানোর পর থেকেই গ্রেপ্তারির জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, আত্মসমর্পণের বদলে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আগাম জামিনের পথেই এগোতে চাইছেন তিনি।
এবার সেই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে দিল্লিতেও। এক জাতীয় সংবাদমাধ্যমের মহিলা সাংবাদিক দিল্লি হাই কোর্টে খান স্যরের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগ, একটি টেলিভিশন বিতর্ক এবং পরবর্তী অনলাইন প্রতিক্রিয়ার জেরে সাংবাদিক ও তাঁর সংবাদমাধ্যম সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়েছে, যা তাঁদের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে।
মামলাকারীর দাবি, বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে একাধিক অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তাও ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই মামলায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ কোটি টাকার দাবি জানানো হয়েছে।
এর মধ্যেই পাটনার সংঘর্ষ-কাণ্ডে তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। প্রথমদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠলেও পরবর্তীতে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও সামনে আসার পর তদন্তের ফোকাস বদলে যায়। সেই ভিডিওতে খান স্যরের প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তারক্ষীদের অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এরপরই দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, খান স্যর আত্মসমর্পণ করছেন না এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন। তবে একের পর এক মামলা, বিতর্ক এবং তদন্তের কারণে বর্তমানে তাঁর উপর চাপ যে ক্রমশ বাড়ছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
সব মিলিয়ে, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে একসঙ্গে একাধিক আইনি লড়াই শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল হয়ে উঠেছে। পাটনার মামলায় আদালতের অবস্থান এবং দিল্লি হাই কোর্টে মানহানি মামলার অগ্রগতি— দুই দিকেই এখন নজর রয়েছে।




