স্যালাইনের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের হাসপাতালগুলিতেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি সার্কুলার জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর।
স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় বিঘ্নের কারণে একাধিক ওষুধ, স্যালাইন এবং চিকিৎসা সামগ্রীর জোগানে টান পড়েছে। বিশেষ করে ইজরায়েল-ইরান সংঘাত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বহু ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, রাসায়নিক উপাদান এবং মেডিক্যাল কনজিউমেবল বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটছে। একই সঙ্গে জাহাজ ভাড়া এবং জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমদানিও কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে ইতিমধ্যেই ১০০ মিলি স্যালাইন, প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, প্যান্টোপ্রাজল, ওআরএস, মেটফর্মিন, টেলমিসার্টান এবং ডিসপোজেবল সিরিঞ্জের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা হাসপাতাল এবং অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সামগ্রীগুলি আপাতত ‘নন-ক্যাটালগ’ বা ‘ননক্যাট’ পদ্ধতিতে সংগ্রহ করতে হবে। অর্থাৎ নিয়মিত সরবরাহ তালিকার বাইরে গিয়ে জরুরি ভিত্তিতে জোগান নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাতে হবে।


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক পরিবহণ ব্যাহত হচ্ছে। ইরানের তরফে পণ্য পরিবহণে বাধা এবং পাল্টা মার্কিন অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।
এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বা পেট্রোপণ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্যাকেজিং সামগ্রী থেকে শুরু করে ওষুধ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় বহু উপকরণের দামও বেড়েছে। ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য মহলের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী দিনে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবেই রাজ্য সরকার হাসপাতালগুলিকে বিকল্প সংগ্রহ ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



