নজরবন্দি ব্যুরোঃ আজ যুদ্ধের অষ্টম দিন। বিপুল শক্তিধর রাশিয়ার সামনে যে এতক্ষন ইউক্রেনের মত দেশ টিকতে পারে সেটাই কল্পনা করেননি অনেকে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা হল, ইউক্রেনের থেকে এই যুদ্ধে অনেক বেশি ক্ষতি হয়েছে রাশিয়ার। তবে সার্বিক ভাবে যুদ্ধ জয়ের দিকেই এগোচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেনের দক্ষিণে বন্দর শহর খেরসন ইতিমধ্যে রাশিয়ার দখলে চলে গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এবার শীতকালীন প্যারালিম্পিক থেকে বাদ রাশিয়া
খেরসনের বাসিন্দাদের জন্য নয়া নির্দেশিকা জারি করল রাশিয়া। রীতিমতো হুমকির সুরে খেরসনের বাসিন্দাদের বলে দেওয়া হয়েছে, কোনওভাবেই যেন রাশিয়ান সেনাকে সেখানকার নাগরিকরা প্ররোচিত না করেন। খেরসনের পর খারকিভে লাগাতার গোলাবর্ষণ চালিয়েছে রাশিয়ার সেনা। বিস্ফোরণের জেরে কমপক্ষে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ২ জন শিশুও রয়েছে।

পাশাপাশি আজ ইউক্রেনের চেরেনিভে তেলের ডিপো লক্ষ্য করে হামলা চালায় রুশ সেনা। ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা অঞ্চল। বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে কার্যত মৃত্যু মিছিল চলছে ইউক্রেনে। কিন্তু এতো গেল সাধারণ মানুষের মৃত্যুর খবর। প্রশ্ন উঠছিল কোন দেশের কত সৈন্য এবং কত যুদ্ধাস্ত্র ধ্বংস হল এখন পর্যন্ত।
ইউক্রেনের থেকে অনেক বেশি ক্ষতি রাশিয়ার, পিছু হটতে চাইছেন পুতিন!

সেই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে কিছুক্ষণ আগে। জানা গিয়েছে, বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দুই দেশের। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, যুদ্ধে ইউক্রেনের ২ হাজার ৮৭০ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে। রাশিয়ার ৯ হাজার ২৭০ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে। ইউক্রেনের ৬২টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে রাশিয়া। পাল্টা রাশিয়ার ৩০টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে ইউক্রেন।
যুদ্ধের অষ্টম দিন পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের ৬০৬টি ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া গাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেন রাশিয়ার ১ হাজার ১১৭টি ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস করেছে। রাশিয়া ইউক্রেনের ৩৯ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস করেছে করেছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার ১১টি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস করেছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কি বলেছেন, যা ক্ষতি হয়েছে তাঁর দেশের তা সুদে আসলে আদায় করবেন রাশিয়ার থেকে।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আচমকাই পিছু হটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি কিছুক্ষণ আগে বলেছেন, রাশিয়ার যা অর্জন করার ছিল তা হয়ে গিয়েছে। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, বেলারুশিয়ান ভূখণ্ডে রাশিয়ান এবং ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চলছে। আমরা আশা করি যে তারা এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাবে, ডনবাসে শান্তি ফিরিয়ে আনবে এবং ইউক্রেনের সমস্ত লোককে শান্তিপূর্ণ জীবনে ফিরে যেতে সক্ষম করবে।



