নজরবন্দি ব্যুরোঃ দুর্গম এলাকার জন্য করোনার ‘শুকনো টিকা!’ ধন্য রাশিয়া। গোটা বিশ্বের থেকে তারা কেন আলাদা তা ফের বুঝিয়ে দিল রাশিয়া। এবার দুর্গম এলাকায় পাঠাতে করোনা ভাইরাসের ‘শুকনো’ টিকা আনল পুতিনের দেশ। কিন্তু এই শুকনো টিকা কি? শুকনো টিকা হল রাশিয়ার তৈরী করোনা ভ্যাকসিন স্পুটনিক ৫ এর একটি অন্য ভার্সান। ফ্রোজেন(সাধারন স্পুটনিক ৫) এর পাশাপাশি টিকার ‘ফ্রিজ ড্রায়েড’ ভার্সান তৈরি করে ফেলেছে রাশিয়া। এই ‘ফ্রিজ ড্রায়েড’ টিকা যেকোন প্রত্যন্ত এলাকায় পাঠানো যাবে।
আরও পড়ুনঃ কঙ্গনার উচ্চতর নিরাপত্তা, এবার তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মিত্রের প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার।


দুর্গম এলাকার জন্য করোনার ‘শুকনো টিকা!’ ‘ফ্রোজেন’ ভার্সানের মত মাইনাস টেম্পারেচারে সংরক্ষণ করার হ্যাপা নেই এই টিকার। ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সংরক্ষনই যথেষ্ট। সাধারন থার্মোকলের বাক্সে ভরেই বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় পাঠানো যাবে স্পুটনিক ভি-র শুকনো টিকা। যদিও রাশিয়া জানিয়েছে ফ্রোজেন টিকাই ব্যাবহার করা হবে সাধারন ক্ষেত্রে। শুধু দূর্গম এলাকার জন্যে ব্যাবহার করা হবে ‘ফ্রিজ ড্রায়েড’ বা শুকনো টিকা। এই ড্রাই-ভ্যাকসিন ডিসটিলড ওয়াটারের সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করা হবে। এই ভ্যাকসিন কে ডিপ ফ্রিজে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি থেকে মাইনাস কুডি ডিগ্রি সেলসিয়াসে বেশ কয়েকমাস মজুত রাখা যাবে।
উল্লেখ্য স্পুটনিক ৫ এর দুই ভার্সান এর দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হয়ে গিয়েছে। বিশ্ব বন্দিত মেডিক্যাল জার্নাল দ্যা ল্যানসেট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। ল্যানসেট জার্নালের রিপোর্ট বলছে, করোনা সামলাতে রাশিয়ার তৈরি ভ্যাকসিনই এখন আশার আলো। প্রথম দফার পরীক্ষায় কোনও স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই অ্যান্টিবডি গঠনে সফল রাশিয়ার টিকা ‘স্পুটনিক ৫’। দ্বিতীয় দফার ট্রায়ালও সফল হয়েছে একই ভাবে।
উল্লেখ্য পৃথিবীর অনেক দেশ টিকা তৈরির যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেও কেউ প্রত্যন্ত এলাকার জনগন কে নিয়ে ভাবেনি। প্রসঙ্গত রাশিয়া জানিয়েছে দেশের ১০০% মানুষ কে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। টিকা সরকার দেবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।


ছাড়পত্র পেলে ভারতে পৃথকভাবে রাশিয়ার ভ্যাকসিনের এর তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হতে পারে। ল্য়ানসেট জার্নাল জানিয়েছে, স্পুটনিক-৫ এর তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হবে বিভিন্ন বয়সের ও ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর চল্লিশ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপর। অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকদের পর্যবেক্ষনের আওতায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি, ভ্যাকসিনের প্রতিটি ডোজের নিজস্ব কিউআর কোড স্বেচ্ছাসেবকদের দেওয়া হবে।







