অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারকে ঘিরে আইনি চাপ আরও বাড়ল। আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে না পারার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় নারুলা। একই সময়ে কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি তৎপরতা ঘিরেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থা এবং কালীঘাটের শান্তিনিকেতন আবাস সংক্রান্ত বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে সামনে এল রুজিরার বিদেশযাত্রার মামলা। আদালত সূত্রে খবর, বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছেন তিনি। আগামী শুক্রবার বিচারপতি পার্থসারথি সেনের এজলাসে মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


আইনি জটিলতার সূত্রপাত গত ২ মে। সেদিন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও রুজিরাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ সেই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ ছিল, পরবর্তী অনুমতি ছাড়া তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।
সেই নির্দেশই চ্যালেঞ্জ করেছেন রুজিরা। শুক্রবার তাঁর আইনজীবী বিচারপতি পার্থসারথি সেনের নজরে বিষয়টি আনেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, এই বিদেশযাত্রার আবেদনের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য বিদেশ সফর বা চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনের সম্পর্ক থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে আইনজীবীরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি।


এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার বিধাননগর সাইবার থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ২৯ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন আইনি সুরক্ষা পেয়েছেন। তবে অন্য একটি শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর বিদেশযাত্রার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ফলে এখন স্বামী-স্ত্রী দু’জনের বিদেশ সফরই আদালতের নজরদারিতে।
এদিকে ২৫ মে কালীঘাটের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে কলকাতা পুলিশের একটি দলের উপস্থিতি ঘিরেও রহস্য তৈরি হয়েছে। বিকেলে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা ও পুলিশ আধিকারিকরা সেখানে পৌঁছন। বাইরে মোতায়েন ছিল বড় পুলিশবাহিনী।
সূত্রের খবর, নতুন প্রশাসনের নির্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সিসিটিভি অডিট করতেই এই পরিদর্শন। তবে সব থেকে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে একটি কম্পিউটার মনিটর বাজেয়াপ্ত করা নিয়ে। প্রায় এক ঘণ্টা পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এক পুলিশ আধিকারিককে ওই মনিটর গাড়িতে তুলতে দেখা যায়।
একদিকে পুরসভার ডেডলাইন, অন্যদিকে বাড়িতে পুলিশি তৎপরতা এবং আদালতে বিদেশযাত্রা নিয়ে নতুন মামলা— সব মিলিয়ে কালীঘাটের রাজনৈতিক অন্দরে চাপ বাড়ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এখন নজর শুক্রবারের শুনানির দিকে। আদালত রুজিরাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়, নাকি নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে— সেটাই আগামী কয়েক দিনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও আইনি প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



