বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান রুদ্রনীল, দায়িত্বে তৃণমূলের ৪ বিধায়কও

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তথ্য ও সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং যুব পরিষেবা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হলেন বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। কমিটিতে তৃণমূলের চার বিধায়কও।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। তথ্য ও সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং যুব পরিষেবা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে তাঁকে। ২০২৬-২৭ সালের জন্য গঠিত এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে রুদ্রনীলের নাম উল্লেখ করে বিধানসভা সচিবালয়ের তরফে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন তৃণমূলের চার বিধায়কও। ফলে নতুন দায়িত্বে রুদ্রনীলের পাশাপাশি বিরোধী দলের বিধায়কদের ভূমিকাও নজরে থাকবে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শিবপুর থেকে বিজেপির টিকিটে জিতে প্রথমবার বিধায়ক হয়েছেন রুদ্রনীল। বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই বাংলা চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগতের কর্মসংস্কৃতি নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। এবার বিধানসভায় তথ্য-সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া ও যুব পরিষেবা—দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে।

মঙ্গলবার বিধানসভার প্ল্যাটিনাম জুবিলি বিল্ডিংয়ের কনফারেন্স রুমে নবগঠিত বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যান ও চেয়ারপার্সনদের নিয়ে বৈঠক করেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু। সেখানেই নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানদের কমিটির কাজের ধরন, দায়িত্ব এবং কার্যপ্রণালী সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলি যাতে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাজ করে, তার জন্য চেয়ারম্যানদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে। তথ্য ও সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং যুব পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে এই কমিটির কাজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে রুদ্রনীলের নতুন দায়িত্বকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

দায়িত্ব পাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), বিধানসভার স্পিকার এবং নিজের দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রুদ্রনীল। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিধানসভা সচিবালয়ের চিঠি প্রকাশ করে তিনি জানান, নতুন সরকারের হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করতে তাঁরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

রুদ্রনীলের বক্তব্য, তথ্য-সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া-যুব কল্যাণ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি মুখ্যমন্ত্রী, স্পিকার এবং দলকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। প্ল্যাটিনাম জুবিলি হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানদের তাঁদের কাজ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে এই কমিটির গঠনেও রয়েছে রাজনৈতিক ভারসাম্যের নজরকাড়া ছবি। বিজেপির একাধিক বিধায়কের পাশাপাশি তৃণমূলের চার বিধায়ককেও কমিটিতে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রথীন ঘোষ, মোশারফ হোসেন, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সঙ্গীতা রায়।

এ ছাড়াও কমিটিতে শাসকদলের একাধিক পরিচিত মুখ রয়েছেন। শর্বরী মুখোপাধ্যায়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, পবন কুমার সিং, অসীম সরকার, মানব গুহ, সন্তু পান, শুক্লা চট্টোপাধ্যায় এবং সৈকত পাঁজার মতো বিধায়কদের নামও রয়েছে।

তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, ক্রীড়া এবং যুব পরিষেবা—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে একসঙ্গে দেখবে এই কমিটি। ফলে চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগতের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা রুদ্রনীলের অভিজ্ঞতা তথ্য ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে কী ভাবে কাজে লাগে, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে কমিটিতে তৃণমূলের চার বিধায়কের উপস্থিতি ভবিষ্যতের আলোচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলতে পারে। সরকারি নীতি, বিভিন্ন প্রকল্প, সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো, ক্রীড়া উন্নয়ন এবং যুব পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে কমিটির বৈঠকে শাসক ও বিরোধী পক্ষের মতামত সামনে আসবে।

অর্থাৎ বিধায়ক হিসেবে প্রথমবার বিধানসভায় পা রাখার পর রুদ্রনীলের রাজনৈতিক দায়িত্ব যে দ্রুত বাড়ছে, নতুন পদ সেই বার্তাই দিচ্ছে। এবার তথ্য-সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও যুব পরিষেবা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর কাজ কতটা নজর কাড়ে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন