তৃণমূল সাংসদরা পিছনের সারিতে কেন? দলত্যাগীদের পদ খারিজ কবে, স্পিকারের কাছে অভিষেকদের প্রশ্ন

দলত্যাগী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন ও লোকসভায় তৃণমূল সাংসদদের পিছনের সারিতে বসানো নিয়ে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দলত্যাগী সাংসদদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং লোকসভায় তৃণমূল সাংসদদের আসন বিন্যাস—এই দুই ইস্যুতে এবার সরাসরি লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার (Om Birla) দ্বারস্থ হল তৃণমূল। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নেতৃত্বে তৃণমূলের একদল সাংসদ স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে জানতে চান, দলত্যাগী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের আবেদনের কী হল। একই সঙ্গে কেন তৃণমূল সাংসদদের অধিবেশনে পিছনের সারিতে বসানো হয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।

সূত্রের খবর, স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতে তৃণমূল সাংসদরা তাঁদের দুটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন। প্রথমত, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পরে অন্য দলে যোগ দেওয়া সাংসদদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে যে আবেদন করা হয়েছে, তার অগ্রগতি জানতে চাওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, লোকসভায় তৃণমূল সাংসদদের আসন কেন পিছনের দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার কারণ জানতে চাওয়া হয়।

তৃণমূল সূত্রের দাবি, স্পিকার তাঁদের আসন বিন্যাসের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। চলতি অধিবেশন প্রায় শেষের পথে। পরবর্তী অধিবেশন শুরু হলে তৃণমূল সাংসদদের কেন পিছনের সারিতে বসানো হয়েছে, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে স্পিকারের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তবে দলত্যাগী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের বিষয়ে স্পিকারের তরফে কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা সময়সীমা জানানো হয়নি বলেই সূত্রের খবর। ফলে এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরাই রয়ে গেল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে আবেদন জানানো হয়েছিল, তার নিষ্পত্তি কবে হবে, তা নিয়েই এখন দলের অন্দরে আলোচনা চলছে।

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা শুরু হয়েছিল। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দলের একাধিক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হন। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিদ্রোহী শিবির তৈরি হওয়ার দাবি ওঠে।

তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, একাধিক সাংসদ পরে অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তাঁরা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে সমর্থন করছেন বলেও তৃণমূলের অভিযোগ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাতের বিষয়টিও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই সাংসদরা তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পর অন্য দলে যোগ দেওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে লোকসভার স্পিকারকে চিঠিও দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

তৃণমূলের বক্তব্য, দলত্যাগের অভিযোগ স্পষ্ট হওয়ার পরেও সদস্যপদ খারিজের আবেদনের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সেই কারণেই এবার সরাসরি স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, লোকসভায় তৃণমূল সাংসদদের আসন বিন্যাস নিয়েও দলের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তাঁদের পিছনের সারিতে বসানো হয়েছে কেন, সেই প্রশ্নই স্পিকারের সামনে তুলে ধরেন অভিষেকরা।

স্পিকারের আশ্বাস অনুযায়ী, পরবর্তী অধিবেশন শুরু হলে আসন বিন্যাসের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হতে পারে। তবে দলত্যাগী সাংসদদের বিরুদ্ধে আবেদনের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত না মেলায় তৃণমূলের মূল দাবি আপাতত ঝুলেই রইল।

ফলে একদিকে লোকসভায় তৃণমূল সাংসদদের আসন নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে দলত্যাগী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের দাবি—দুই ইস্যুতেই রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে তৃণমূল। স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং দলত্যাগের অভিযোগে সাংসদদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন