নজরবন্দি ব্যুরোঃ তৃণমূলের নতুন রাজ্য সম্পাদক, ২১ নির্বাচনে মমতার ট্রাম্প কার্ড ঋতব্রত!যেদিন দেখা গিয়েছিল তৃণমূলের রাজ্যসভার মনোনীত প্রার্থী তালিকায় ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় নেই সেদিনই স্থির হয়ে গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে সাংগঠনিক দায়িত্ব পেতে চলেছেন তিনি। ঘোষণা হওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা। এদিন সেই ঘোষনাই করা হল তৃণমূলের তরফে। তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলী তে স্থান পেলেন ঋতব্রত বন্দপাধ্যায়। রাজ্য সম্পাদক করা হয়েছে এই প্রাক্তন সাংসদ কে। তাঁকে আলিপুরদুয়ার জেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৷ এদিন শুধু ঋতব্রতই নন তাঁর সাথে রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীতে স্থান পেয়েছে ওমপ্রকাশ মিশ্রও।
আরও পড়ুনঃ গ্রামে কমছে করোনা সংক্রমণ, শহরে অব্যাহত তাণ্ডব! দেখুন জেলার চিত্র।


উল্লেখ্য, সিপিআইএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই ঋতব্রত রাজ্যসভায় নিজের বক্তব্য পেশ করে এসেছেন বাংলা কে সামনে রেখে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি প্রথম বার কোন সাংসদের ট্যুইট করে থাকেন সেই সোউভাগ্যবান ঋতব্রতই। এখন দেখার রাজ্যসভার দাপুটে বক্তা ঋতব্রত ২০২১ সালে ফের একবার রাজ্যে ঘাসফুল ফোটানোর ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কে কতটা সাহায্য করতে পারেন।
এদিকে গত ২১শে জুলাই ভার্চুয়াল সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী সরাসরি আক্রমণ শানান রাজ্যের উদিয়মান শক্তি বিজেপি-র বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, নির্বাচনকে বিজেপি একটা নোংরা খেলায় পরিণত করেছে। টাকা দিয়ে ভোট কেনে বিজেপি। একটা ঘটনা ঘটলেই গাড়িগুলো জ্বালিয়ে দিচ্ছে। রাস্তায় বসে পড়ছে, যেন ওর রাস্তা। যেন দিল্লি থেকে এসে রাস্তাগুলো বানিয়ে দিয়েছে। এত বড় সাহস, দিল্লির এক জন তাঁবেদার বা সুবেদার আমাকে ফোন করে বলছে, উপাচার্যদের শোকজ করবে। আমি বললাম, হাত দিয়ে দেখুন, ছাত্র আন্দোলন কাকে বলে, দেখতে পাবেন। বিজেপির বিরুদ্ধে শ্লোগান বেঁধে দিয়ে তিনি বলেন, জনগণ সাবধান, আপনাদের করছি আহ্বান, বিজেপির সাথে আছে অনেক অনেক টাকা আর গান!
অন্যদিকে আমফান, এবং রেশন কেলেঙ্কারি নিয়েও এদিন বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমপান হল, বিজেপির কী নাচানাচি বাপরে! ভাববেন না যে, কোভিড চলছে বলে এনসিআর ভুলে যাব।” তাঁর কথায়, “বড্ড মিথ্যে অপপ্রচার হচ্ছে। বাংলায় কত রেশন দোকান রয়েছে? দু’একটা স্পটে গণ্ডগোল হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা তার ব্যবস্থা নিয়েছি। এত ব্লকে সরকার শান্তিতে কাজ করছে সেটা নিয়ে কিছু বলছে না। দু’একটা ঘটনা নিয়ে বিজেপি, কংগ্রেস সিপিএম লণ্ডভণ্ড করতে নেমে পড়েছে।”


কার্যত ২০২১ সালের নির্বাচনী প্রচারের অফার দেওয়ার মত এদিন তিনি বাংলার মানুষকে বিকল্প চয়ন করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “এমন রাজ্য কোথায় পাবেন, যেখানে লকডাউন ঘোষণার আগে বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল! সামনের বছর জুন মাস পর্যন্ত রেশন দেওয়ার কথা আগেই বলেছি। আজ বলছি, আমাদের সরকার থাকলে সারা জীবন ফ্রিতে রেশন আর পড়শোনা করার সুযোগ পাবেন বাংলার মানুষ।” আগামী বছর ২১ শে জুলাই এর দিন অনেক বড় করে সমাবেশ হবে জানিয়ে মমতা বলেন। এই বছর ধর্মতলায় সভা করতে পারলাম না বলে দুঃখ হচ্ছে।








