বাইক নিষেধাজ্ঞায় কড়া প্রশ্ন হাইকোর্টের: ‘ক্ষমতা আছে বলে যা খুশি করা যায় না’

ভোটের আগে ৭২ ঘণ্টা বাইক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে হাইকোর্টের কড়া প্রশ্ন; নাগরিক অধিকার খর্বের অভিযোগে কমিশনকে হলফনামার নির্দেশ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের আগে বাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট মন্তব্য—আইনি ক্ষমতা থাকলেই নাগরিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা যায় না। এই নির্দেশকে ‘নজিরবিহীন’ বলেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনের আইনজীবীর কাছে একাধিক কড়া প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “যদি পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়, তা হলে সরাসরি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হোক। তা না করে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া কি সমাধান?” আদালতের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকার প্রচেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে।

আদালত জানতে চায়, গত কয়েক বছরে মোটরবাইক ঘিরে কতগুলি অপরাধমূলক ঘটনা বা এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে। বাস্তবিক প্রমাণ ছাড়া ৭২ ঘণ্টা আগে থেকেই বাইক চলাচল বন্ধ করার যুক্তি কী—সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। বিচারপতির মন্তব্য, “এইভাবে সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব করা যায় না। তা হলে গাড়ি চলাচলও বন্ধ করে দিন!”

শুনানিতে আরও বলা হয়, ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে কিছু নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু তিন দিন আগে থেকে এমন নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। অন্য কোনও রাজ্যে এমন সিদ্ধান্তের নজির রয়েছে কি না, তাও জানতে চেয়েছে আদালত।

এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। কেন ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ কারণ ও অতীতের নজির উল্লেখ করে শুক্রবারের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে।

সব মিলিয়ে, ভোটের নিরাপত্তা ও নাগরিক স্বাধীনতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল এই ঘটনায়।

-বিজ্ঞাপন- Shamim Ahamed Ads
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত