ভোট মিটলেই কি বাড়বে পেট্রল-ডিজেলের দাম? পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, অপরিশোধিত তেলের দামের উত্থান এবং সরবরাহ সঙ্কট—এই তিনের চাপে ভারতে জ্বালানির দামে বড়সড় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একটি ব্রোকারেজ রিপোর্টে দাবি, নির্বাচনের পর লিটারপিছু ২৫ থেকে ২৮ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।
ব্রোকারেজ সংস্থা কোটাক ইনস্টিটিউশনাল ইকুইটিজের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় দেশের রিফাইনারিগুলির উপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত খুচরো স্তরে সেই দাম বাড়ানো হয়নি, ফলে ক্ষতির বোঝা ক্রমশ বাড়ছে। মাসে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে রিপোর্টে।


এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতাকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে টানাপোড়েনের ফলে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা বেড়েছে এবং আমদানি খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও মোট ব্যয় বেড়ে গিয়েছে। মার্চ-এপ্রিল সময়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১৯০ থেকে ২১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রিফাইনারিগুলির পক্ষে আগের দামে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তবে এখনও পর্যন্ত খুচরো বাজারে পেট্রল-ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে। পাঁচ রাজ্যে ভোট চলার কারণে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলেই অনুমান।


রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম যদি ১২০ ডলারের কাছাকাছি থাকে, তা হলে বড়সড় মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। যদিও বাস্তবে দাম বাড়ানো ধাপে ধাপে হতে পারে, যাতে মুদ্রাস্ফীতির উপর চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
সব মিলিয়ে, ভোটের পর দেশের জ্বালানি বাজারে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।








