পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত। ভোটের ফল ঘোষণার দু’মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে প্রকাশ্যে এল গভীর বিভাজন। ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিধানসভায় আত্মপ্রকাশ করল ‘নব তৃণমূল ব্লক’। এই নতুন ব্লকের বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার বিধানসভায় ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র নিয়ে পৌঁছন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে ওই বিধায়কদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করা হয় বলে সূত্রের দাবি। একইসঙ্গে উপ-দলনেতা হিসেবে শিউলি সাহা, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহার নামও সামনে এসেছে।


ঘটনার সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সই সংক্রান্ত বিতর্ক থেকে। সেই বিতর্কই পরে সই জালিয়াতির অভিযোগে রূপ নেয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে CID। বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষের কাছেও অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা।
পরবর্তীতে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু তারপরই রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করে। ঋতব্রতের নেতৃত্বে একাধিক বিধায়ক একজোট হয়ে নতুন ব্লক গঠনের পথে হাঁটেন।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই বিধায়কেরা এখনও পর্যন্ত নতুন কোনও রাজনৈতিক দল গঠন করেননি। তাঁদের দাবি, তাঁরা এখনও নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের অংশ হিসেবেই মনে করেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সর্বোচ্চ নেত্রী হিসেবেই স্বীকৃতি দেন।


নব তৃণমূল ব্লকের বক্তব্য, তারাই প্রকৃত তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করছে। সংখ্যার বিচারে বিধানসভাতেও তাদের অবস্থান শক্তিশালী। সূত্রের দাবি, বর্তমানে নব তৃণমূল ব্লকের বিধায়ক সংখ্যা ৫৮, যেখানে আদি তৃণমূল শিবিরে রয়েছেন ২২ জন বিধায়ক।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি বিধানসভার অন্দরে বিরোধী রাজনীতির চরিত্রই বদলে দিতে পারে। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্নে নতুন ব্লকের অবস্থান অনেকটাই শক্তিশালী বলে দাবি করা হচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, বিষয়টি এখন আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তাঁর কথায়, যারা তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে ভোটে জিতেছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের এই পদক্ষেপ সাধারণ কর্মী ও মানুষ কীভাবে দেখবেন, তা সময়ই বলবে।
তিনি আরও বলেন, যদি কেউ দলীয় নেতৃত্বকে উপেক্ষা করে অন্য কোনও উদ্দেশ্যে বা প্ররোচনায় এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন, তবে তার রাজনৈতিক মূল্যায়ন জনগণই করবেন। তাঁর মতে, এ ধরনের বিষয় গোপনে না করে দলীয় স্তরে আলোচনা করাই উচিত ছিল।
এখন নজর বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে। নব তৃণমূল ব্লকের দাবি কতটা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায় এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হয়, তা আগামী দিনের ঘটনাপ্রবাহেই স্পষ্ট হবে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



