পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নতুন বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দিনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫৮ জন সমর্থক বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিরোধী দলনেতার দফতরে প্রবেশ করলেও একটি বিশেষ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধী দলনেতার ঘরে রাখা চেয়ারটি যে একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত ছিল, তা জানার পর সেই চেয়ারে বসতে অস্বীকার করেন ঋতব্রত।
বুধবার বিধানসভার সচিবালয়ের তরফে বিরোধী দলনেতার ঘরের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। সমর্থক বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘরে প্রবেশ করেন। প্রথমে নির্দিষ্ট চেয়ারে বসার প্রস্তুতি নিলেও পরে জানতে পারেন, ওই চেয়ারটি একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবহার করতেন। এরপরই তিনি সেই আসনে বসতে অস্বীকৃতি জানান।
সূত্রের দাবি, ঋতব্রত এরপর প্রাক্তন বামফ্রন্ট নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র-র ব্যবহৃত চেয়ার আনার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। যদিও সেই চেয়ার তখন আর পাওয়া যায়নি। পরে বিকল্প ব্যবস্থায় তাঁর বসার ব্যবস্থা করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে বিধানসভার অন্দরে কৌতূহল তৈরি হয়।
তবে চেয়ার বিতর্কের থেকেও বেশি রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ ছিল ঋতব্রতের সাংবাদিক বৈঠকের বক্তব্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁর নেতৃত্বাধীন পরিষদীয় দলের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে তিনি বারবার উল্লেখ করেন, তাঁদের নেত্রী এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এবং চাইলে তিনি পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করতে পারেন।
ঋতব্রতের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাখলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি প্রকাশ্য বিরোধিতার পথে হাঁটতে চাইছেন না। বরং ‘আসল তৃণমূল’-এর রাজনৈতিক ও আদর্শিক অভিভাবক হিসেবে মমতার ভূমিকা বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।
রাজ্য রাজনীতিতে এই পরিস্থিতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু সেই অসন্তোষ যে এত দ্রুত সাংগঠনিক রূপ নেবে এবং বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিরোধী বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে নতুন নেতৃত্ব আত্মপ্রকাশ করবে, তা অনেকেই কল্পনা করেননি।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ থেকে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যাত্রা শুরু।” অন্যদিকে, আদি তৃণমূলের মনোনীত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পাল্টা দাবি করেন, দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই রয়েছেন সাধারণ মানুষ এবং কর্মীরা।
বিধানসভার বিরোধী শিবিরে এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।



