পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ফের বড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। শনিবার ভোর থেকেই কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। দক্ষিণেশ্বর, ভবানীপুর এবং জোকার একাধিক ঠিকানায় একযোগে অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, কাকভোরে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে জোকা মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটে পৌঁছয় ED-র দল। স্থানীয়দের দাবি, গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে মদন মিত্র ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করেন না। ফ্ল্যাটটি তালাবন্ধ থাকায় তদন্তকারীদের দীর্ঘক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করতে হয়।
প্রায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চাবির খোঁজ চলে। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে তদন্তকারীরা সেখানে তল্লাশি চালান। একই সময়ে দক্ষিণেশ্বর এবং ভবানীপুরে মদন মিত্রের সঙ্গে যুক্ত অন্য ঠিকানাগুলিতেও অভিযান শুরু হয়।
ED সূত্রের দাবি, তল্লাশি চলাকালীন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি নগদ অর্থ এবং একাধিক আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ছয়টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে বলেও সূত্রের খবর।
তবে এই অভিযান শুধুমাত্র মদন মিত্রের সম্পত্তিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় মোট আটটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালিয়েছে ED। তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এদিন বেলেঘাটা মেন রোডে এক ঠিকাদার সঞ্জীব ঘোষের বাড়িতেও পৌঁছন তদন্তকারীরা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর নাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। সেই আর্থিক লেনদেন ও টেন্ডার সংক্রান্ত নথিপত্রও খতিয়ে দেখছে ED।
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগেও একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতার করা হয়েছে। মদন মিত্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি থেকে কী নতুন তথ্য সামনে আসে এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও তদন্তকারী সংস্থার।



