নজরবন্দি ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে জর্জরিত পশ্চিমবঙ্গ। কলকাতা হাইকোর্টে চলছে মামলার শুনানি। কয়েকমাস আগেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৩২ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের হলে নির্দেশের সামান্য পরিবর্তন হয়। এরপর জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শীর্ষ আদালত ডিভিশন বেঞ্চের রায় খারিজ করে দেন। কিন্তু সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়তে কোনও ‘সুপ্রিম’ নির্দেশ নেই। তবে কি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায় বহাল রইল!
আরও পড়ুন: দল থেকে নিশ্চিহ্ন Partha Chatterjee! ২১ জুলাইয়ের আগেই তৃণমূল থেকে সরল ‘মহাসচিব’ পদ
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রথমে ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। পরবর্তীকালে তা ৩২ হাজার হয়। নির্দেশের চার মাসের মধ্যেই নতুন ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যায় চাকরিহারাদের একাংশ। সেখানে বলা হয়, ৩২ হাজার শিক্ষককে ফের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে। সেখানে ব্যর্থ হলে তাঁরা চাকরিচ্যুত হবেন। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় পর্ষদ কর্তৃপক্ষ এবং প্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশ। গত ৭ জুলাই এই মামলায় স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ৩২ হাজার শিক্ষক পাঁচ বছর ধরে চাকরি করছেন। তাই চাকরি বাতিলের জন্য তাঁদের একাংশের বক্তব্য শোনা উচিত। যা সিঙ্গেল বেঞ্চ বা ডিভিশন বেঞ্চ কেউ করেনি। এরপরই ডিভিশন বেঞ্চকে তাঁদের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু এদিকে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ের একাংশ এখনও বহাল রয়েছে। তিনি চাকরি বাতিলের যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা নিয়ে কোনও রায় দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ২০১৬ সালের নিয়োগ হওয়া ৩৬ হাজার প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক যাদের ‘প্রশিক্ষণ’ নেই তাঁদের চাকরিচ্যুত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। প্রথমে ৩৬ হাজার থাকলেও সংশোধনের মাধ্যমে সংখ্যাটা ৩২ হাজারে নেমে দাঁড়ায়।
৩২ হাজার চাকরি বাতিলের মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের রায় বহাল সুপ্রিম কোর্টে?




