নজরবন্দি ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস জর্জরিত। মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিধায়ক, দলের অনেকেই এই মুহূর্তে জেলবন্দি। বিরোধীরা বিভিন্ন সময় এই প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে চাইছে। যদিও দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময়েই বলে এসেছেন আইন আইনের পথে চলবে, অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে। তাঁদের কথাই শেষ পর্যন্ত মিলে গেল! বাগ কমিটির প্রধান জানালেন, তদন্তে কোনও রাজনৈতিক চাপ আসেনি। এমনকি রাজ্য সরকার সবরকমভাবেই সাহায্য করেছে।
আরও পড়ুন: ‘উস্কানিমূলক কথা বললেই বেঁধে রাখব’, শুভেন্দুকে হুঁশিয়ারি তৃণমূল বিধায়কের
বাংলায় নিয়োগ দুর্নীতির পর্দাফাঁস প্রথম করেছিল বাগ কমিটি। এমনকি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় যে এই দুর্নীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তাও তারাই প্রথম প্রকাশ্যে আনে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগের নেতৃত্বে বাগ কমিটি একটি রিপোর্ট পেশ করে কলকাতা হাইকোর্টে। এরপরই তদন্তভার যায় কেন্দ্রীয় দুই গোয়েন্দা সংস্থা ইডি ও সিবিআইয়ের হাতে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূলের আরও একাধিক সদস্যদের নাম জড়িয়েছে। সম্প্রতি বাগ কমিটির প্রধান একটি সভায় উপস্থিত হয়ে জানান, তদন্ত চলাকালীন রাজ্য সরকারের তরফে কোনও হস্তক্ষেপ করা হয়নি।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আরও বলেন, “রাজ্যের কাছ থেকে আমরা সহযোগিতা পেয়েছি। দল বা কোনও পদাধিকারী এনিয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। শিক্ষা সচিবকে ডাকা হলে তিনি এসেছিলেন। সব প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি।” বাগ কমিটির প্রধান দাবি করেছেন, আদালতের নির্দেশে তদন্ত হয়েছে। তাই কেউ নাক গলাতে পারেনি। নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি তৈরি নিয়ে কার কতটা এক্তিয়ার ছিল সে বিষয়েও বিস্তারিত তা স্পষ্ট করা ছিল।

উল্লেখ্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি ছয় দিনের মাথায় দলের মহাসচিব সহ সমস্ত পদ থেকে অব্যাহতি দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিকবার দেখা গিয়েছে, তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরাই তাঁকে নিয়ে নানা সমালোচনা করেছেন। রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী তথা খড়দহের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ”২০২২ সালের ২১ জুলাই একই মঞ্চে কত কথা হয়েছে পার্থর সঙ্গে। ওঁর নামে যে অভিযোগ উঠেছে, এরকম পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে চিনি না।” সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “আমরা দুঃখিত ওঁর মতো লোক আমাদের দলে ছিল। এখন আর ওঁকে মিস করি না।” তাঁর গ্রেফতারির পর দীর্ঘ সময় ধরে ‘মহাসচিব’ পদটি খালি পড়েছিল। অবশেষে দল থেকে এই পদটি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শাসক দল।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সাহায্য করেছে রাজ্য, নেই রাজনৈতিক চাপ, মন্তব্য বাগ কমিটির প্রধানের




