নজরবন্দি ব্যুরোঃ দুজনেই পাগলা গারদ থেকে এসে যা খুশি করছে, এক জনের স্ত্রী আছে অন্য জনের স্বামী… কিন্তু আপাতত এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই বেহালা পুর্বনের বিধায়িকা রত্না চট্টোপাধ্যায়ের। তিনি মনে করছেন সমাজ উচ্ছন্নে যাচ্ছে, তিনি একা কী আর করতে পারেন? তাই এসব নিয়ে আকাশ কুসুম না ভেবে বরং নিজের কাজেই মন দেওয়া শ্রেয় মনে করছেন প্রাক্তন শোভন-ঘরণী রত্না চট্টোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ এবার থেকে রেজিষ্ট্রেশন ছাড়াই মিলবে টিকা! নোটিস জারি স্বাস্থ্যমন্ত্রকের


সকলে বলেন বাংলার রাজনীতি বরাবরই রঙিন। তবে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে আজকালের দিনে রাজনীতিতে রঙের ছিটে ছড়াচ্ছেন শোভন-বৈশাখী। রাজনীতির অলিন্দ থেকে সাধারণ মানুষ… সকলের চোখে তাঁদের বন্ধুত্ব থেকে পাশে দাঁড়ানো, প্রয়োজনে অন্যকে কটাক্ষ একসঙ্গে সকলেই উভয়কে একত্রে রোমিও জুলিয়েট বলে থাকেন। সেই তাঁরাই এবার জামাইষষ্ঠীর মরশুমে জল্পনা বাড়িয়েছেন কয়েকগুন।

বুধের ভোররাতে বৈশাখী ব্যানার্জী ফেসবুকে ইঙ্গিত দিয়েছেন জীবনের নতুন ইনিংস শুরুর। ফেসবুকে ফেসবুকেও নিজের নামের সঙ্গে জুড়ে নিয়েছেন ‘শোভন’ এর নাম। এখন থেকে তিনি শোভন বৈশাখী ব্যানার্জী। ছবিতে ক্যাপশন দিয়েছেন ‘The Journey From Me to We Begins’ এই প্রসঙ্গে বৈশাখী ব্যানার্জী নিজে জানিয়েছেন, “শোভন এখন ফেসবুকে থাকেন না। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অনেকটা দূরেই থাকেন। তাই আজ থেকে আমার এই ফেসবুক অ্যাকাউন্টটাকে আমার আর ওর দুজনের অ্যাকাউন্ট করে দিলাম।’সঙ্গে তিনি যোগ করেন ”ও আমাকে সব অধিকার দিয়েছে। সেই অধিকারে করলাম।”


রাজনীতির চরম পর্যায় থেকে নারদা কান্ডে জেলে যাওয়া শোভন, কান্নাকাটি, হল্লাহাটি সব নিয়ে প্রায় প্রত্যেক জায়গাতেই স্বমহিমায় উপস্থিত থেকেছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন থেকে আত্মপলোব্ধি সব কিছুতেই পাশে থেকেছেন বৈশাখী দেবী। প্রতি ঘটনাতেই একপ্রকার প্রত্যক্ষ্য বা পরোক্ষ সংঘাত বেঁধেছে শোভন-জায়া রত্না দেবীর সঙ্গেও। একাধিক ঘটনায় ব্যাক্তিগত সম্পর্ক বাইরে এসেছে বারবার। তবু নিজেদের সম্পর্কে অটল ছিলেন বৈশাখী দেবী। এবার সেই সম্পর্ককেই আরও একাধাপ এগিয়ে দিচ্ছেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বুধবার ভোররাতে আচমকাই বদলে যায় বৈশাখী দেবীর ফেসবুক প্রোফাইলের নাম। হয়ে যায় ‘বৈশাখী শোভন ব্যানার্জি’। সঙ্গে রত্না দেবীর প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, ওর পদবিটা রত্না চট্টোপাধ্যায় ব্যবহার করুন, আমার কিছু আপত্তি নেই। সেটা ভালোবেসে ব্যবহার করুন বা দাগ ঢাকতে ব্যবহার করুন, আমার কোনও আপত্তি নেই। আমি ব্যানার্জি পদবিটা জন্মগত অধিকারে ব্যবহার করি। কিন্তু শোভন নামটা ব্যানার্জি আর বৈশাখীর মধ্যে নিয়ে এলাম।”
ব্যাস, তার পর থেকেই চর্চা-জল্পনা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে রাজনীতির উঠোন থেকে শহরের রাস্তায়। কিসের ইঙ্গিত দিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়? এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন গিয়েছে প্রাক্তন শোভন ঘরণী রত্না চট্টপাধ্যায়ের কাছেও। বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে শোভন-রত্নার মধ্যে। তার মধ্যেই বৈশাখীর ‘আমরা’এর সূচনায় কি বক্তব্য বেহালার বিধায়িকার।
দুজনেই পাগলা গারদ থেকে এসে যা খুশি করছে! শোভন-বৈশাখী নিয়ে আর ভাবছেন না রত্না। সাফ বুঝিয়ে দিয়েছেন এই মুহুর্তে অনেক কাজ তাঁর। এসব শুনে ভাবার সময় নেই। বিষেশ কিছু মন্তব্যও করেননি। তাঁর বক্তব্য এসব পাগলের কাজ, এসব ভাবা বা শোনার বিষেশ সময় নেই তাঁর।
শুধু বৈশাখীর নতুন ইনিংসের সূচনার ইঙ্গিতবাহী ক্যাপশন দেখে রত্না দেবী বলেছেন, “এক জনের স্ত্রী রয়েছে, অন্য জনের স্বামী রয়েছে’ তার পরেও কীভাবে কেউ এমন করতে পারে তা বুঝতে পারছেন না তিনি। তাঁর বক্তব্য, ” যে যা পারছে করছে। সুুপ্রিম কোর্ট এমন একটা রায় দিয়ে দিয়েছে, যে যা খুশি তাই করছে। দেশে কোনও আইন বলে কিছু নেই। যার মনে হচ্ছে, অন্যের স্বামীকে নিয়ে থাকতে শুরু করছে। সমাজটা উচ্ছন্নে যাচ্ছে।” সঙ্গে কটাক্ষ করে বলেছেন পাগলা গারদ থেকে দুজনে ছাড়া পেয়ে এসে যা খুশি করে যাচ্ছে।







