নজরবন্দি ব্যুরোঃ পিংলার বিশেষভাবে সক্ষম মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা মারধর ও ভয় দেখানোর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন পঞ্চায়েত সদস্য। বুধবার ধৃত অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করে তোলা হয় মেদিনীপুর সিজেএম আদালতে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হবে আদালতে। পিংলা থানার পুলিশ ধৃতকে সাত দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতেআবেদন জানিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘আপনি আগে আপনার স্ত্রী ও মেয়ের মৃত্যুরহস্য সামনে নিয়ে আসুন’ অধীরকে ব্যক্তিগত আক্রমণ লাভলীর


মঙ্গলবার রাতে অভিযোগ দায়েরের পর বুধবার সকালেই তাঁকে প্রথমে নিয়ে আসা হয় পিংলা থানায়। সেখান থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে নিয়ে আসা হয় মেদিনীপুর আদালতে। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬, ৫১১, ৩৫৪বি, ৩২৩, ৩২৪, ৫০৬ ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

ওই মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা, মারধর, ভয় দেখানো-সহ একাধিক মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পিংলা থানার কালুখারা গ্রামে সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, দিদির বাড়িতে গিয়েছিলেন নির্যাতিতা। সোমবার রাতে পুকুরঘাটে বাসন ধুতে যাওয়ার সময় তাঁকে তুলে নিয়ে যান অভিজিৎ। এর পর তাঁকে মারধর ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।
এই ঘটনার পর নির্যাতিতাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করার চেষ্টা হলে সেখানেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক বয়ানে নির্যাতিতার পরিবার দাবি করে ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই বয়ান বদলের নেপথ্যের কারণ জানা যায়নি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল এবং বিজেপির রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।


হাসপাতালে যেতে বাধা দেওয়া বাধ্য হয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে। কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর পরে সেই অভিযোগপত্র পিংলা থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। এর পর গ্রেফতার হন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। অন্য দিকে, পিংলার ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার মেদিনীপুর শহরে মিছিল করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনী। যার নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্য সম্পাদক কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়।
ধর্ষণ না কি ধর্ষণের চেষ্টা? পিংলার ঘটনায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন বিজেপির জেলা সভাপতি তন্ময় দাসের বক্তব্য, ‘শাসক দলের মদতে পুলিশ অভিযোগ নিতে গড়িমসি করেছে। আমরা চাই পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীকে কঠোর শাস্তি দিক। পাশাপাশি নির্যাতিতা যাতে সরকারি সাহায্য পান সেই ব্যবস্থাও করুক প্রশাসন।’
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদন প্রথম প্রকাশের সময় নির্যাতিতার পরিবার মৌখিক ভাবে ধর্ষণের অভিযোগ করে। তবে পরে থানায় অভিযোগ দায়ের সময় ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে।








